নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কথাকলি উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করা হয়েছে উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও উত্তর জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নেতা আবুল কাশেম ওয়াহিদীকে। আর এতেই বেজায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন ওই এলাকার স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিমত, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের নানা সেক্টরকে লুটেপুটে খেয়েছে আওয়ামী লীগ। আর সেই লুটপাটের সঙ্গী এই আওয়ামী নেতারা। তাছাড়া বৈষ্যম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যখন গোটা দেশ উত্তাল ঠিক তখনি ছাত্রদের রাজাকার বলে স্লোগান দিচ্ছিল এই নেতারা। শুধু তাই নয় লগি-বৈঠা হাতে ছাত্রদের দমনেও পুলিশের সাথে মাঠে নেমেছিল তারা। আর সেই ফ্যাসিস্ট দলের বড় নেতাকে ৫ আগস্টের পর একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি করা হলো। যা রীতিমতো হতবাক হওয়ার মতো ঘটনা।
স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীদেরও অনেকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, অবিলম্বে কাশেম ওয়াহিদীকে সভাপতি থেকে সরিয়ে নতুনভাবে কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দিতে হবে যোগ্য কাউকে।
রাজনৈতিক সচেতন মহল বলছে, কাশেম ওয়াহিদী ও এডভোকেট ফখরুদ্দিন সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন। এদের ব্যাপারে সকর্ত না হলে চরম মূল্য দিতে হবে। কারা তাদের এসব সামাজিক চেয়ারে বসাচ্ছেন তা খতিয়ে দেখা দরকার। এর আগে তিনি কথিত সাংবাদিকদের সাথে বিএনপি নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরীর কম্বল বিতরণ করেন। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এতোকিছুর পরও তিনি থামেননি। কেননা তার এসাইনমেন্ট সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগকে রিফর্ম করা। আর এভাবেই তিনি নানা জায়গায় বসছেন। কেউ কেউ বুঝে কেউ কেউ না বুঝে এদের মতো আওয়ামী লীগ নেতাকে পুনর্বাসিত করছেন।
অভিযোগ আছে, ৫ আগস্টের পর স্কুল পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসে। ১৯৮৮ সালে তৎকালিন জাতীয় পার্টির উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বাচ্চু বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু কালক্রমে দুর্নীতিবাজ কয়েকজন শিক্ষকের কারণে তিনি স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।
৫ আগস্টের পর স্থানীয় যুবকরা উদ্যোগ নিয়ে কথাকলি স্কুলকে সংস্কার করেন। তাদের প্রচেষ্টায় স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮০ থেকে বেড়ে ১৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও নতুন আলমিরা সংযোজনসহ বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ করেছে সমাজহিতৈষীরা। কিন্তু আবুল কাশেম ওয়াহিদীকে সভাপতি করায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় যুবকরা বলেন, সীতাকুণ্ডে শিক্ষানুরাগীর কি অভাব পড়েছে? যে আওয়ামী লীগ নেতাকে সভাপতি করতে হবে? উনিতো নিজের প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোই ঠিকঠাক চালাতে পারছেনা। তাহলে একটি পিছিয়ে পড়া স্কুলকে নতুন করে কিভাবে ওঠিয়ে আনবেন এই বৃদ্ধ বয়সে। তাছাড়া কার পরামর্শে স্বৈরাচারী নেতাকে সভাপতি করা হলো এই প্রশ্ন এখন জনে জনে?
সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট সরোয়ার হোসেন লাভলু বলেন, এর আগে কম্বল বিতরণ নিয়ে তিনি সমালোচনায় পড়েন। সেই ওয়াহিদীকে করা হলো বিদ্যালয়ে সভাপতি। কোন লাভে? সীতাকুণ্ডে কি বিএনপি-জামায়াতের নেতার এতোই অভাব। নাকি আওয়ামী আমলে বিএনপির কোন নেতাকে নিয়ে আওয়ামী লীগ এভাবে কোন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি করেছে। উল্টো কোন শিক্ষক থাকলেও তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের সাবেক এক ছাত্র বলেন, কথাকলি স্কুল নানা কারণে উন্নয়ন হয়নি। ফলাফলও ভালো নয়। বেতন কাঠামো বাজে বলে ভালো শিক্ষকরাও এখানে আসেন না। স্কুলের কোন ফান্ড নেই। এবারও স্কুলটিকে পিছিয়ে রাখার জন্য এ কাজ করা হলো।
জানতে চাইলে কথাকলি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম বলেন, আমি কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছি। কমিটি কিভাবে গঠিত হয়েছে কিংবা কোন শিক্ষককে বাদ দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে আমি জানিনা।
বর্তমান কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম ওয়াহিদী বলেন, স্থানীয় জামায়াত-বিএনপির ছেলেরাই আমাকে বানিয়েছেন। এতে আমার কিছু করার নেই। আমি বলেছি আমি কোন দায়িত্ব নিব না। এরপরও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর স্কুলটির সাবেক কয়েকজন শিক্ষককে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ আছে। সেসব নিয়ে আমাদের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হবে শীঘ্রই।