চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগী বাড়ছে। সম্প্রতি অক্টোবর মাসে পরিচালিত এক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে ৪৫১ জন নারীর পরীক্ষা শেষে ১২ জনের মধ্যে এই রোগ সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ২৫ বছরের এক কলেজ ছাত্রীর শরীরে ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়েছে। শুধু তাই ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধের শরীরেও রোগটি সনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সচেতনতার অভাবে ও সামাজিক ট্যাবু থেকে বের হতে না পারায় এই রোগ দ্রুত আরও বাড়তে পারে। তাই নারীদের ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে বাঁচাতে সবার আগে সচেতনতা প্রয়োজন। শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে নগরের একটি হোটেলে বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআর ও সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা এসব কথা জানান। এতে উপস্থিত ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের সদস্য সচিব ডা. খুরশিদ জামিল, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি, ডা. শাকেরা আহমেদসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। আয়োজকরা জানান, ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চসিক ও সিএসসিআর এর যৌথ উদ্যোগে ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতামূলক ক্যম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছে। এতে নগরের গুল-এজার বেগম সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪০০ জন, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে ১৫০ জন এবং সিএমপিতে ৩০০ জন নারী প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর নিবন্ধন করেছেন। তবে সর্বমোট ৭০২ জন নিবন্ধন করলেও ৪৫১ বিনামূল্যে কনসালটেশন গ্রহণ করেন। আর ৫০ শতাংশ ছাড়ে এই রোগের ইনভেস্টিগেশন সুবিধা নেন ২৫৭ জন রোগী। তারা আরও জানান, ৪৫১ জনের মধ্যে ১২ জনের শরীরে ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়ে। এর মধ্যে ২৫ বছর বয়সী তরুণীও রয়েছেন, এর আগে চট্টগ্রাম শহরে এতো কম বয়সে কারো শরীরে এই রোগ পাওয়া যায়নি। সনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ৩ জনের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম নগরের মোট জনসংখ্যার অনুপাতে নারীদের কত শতাংশ ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত তা জানাতে পারেনি আয়োজকরা। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান বলে জানান তারা। চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আপনারা জানেন, বিশ্বে প্রতি ৮ জন নারীর একজন নারী ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকিতে আছে। প্রাথমিক অবস্থায় ব্রেস্ট ক্যান্সার সনাক্ত করা গেলে নিরাময়ের হার ৯৫ ভাগ। অক্টোবরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম যৌথভাবে শেষ হলেও বছরব্যাপী আমরা নারীদের এই সেবা দিব। চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে ব্রেস্ট ক্যান্সার বাড়ছে। কিন্তু আমাদের সামাজিক রীতিনীতি রক্ষণশীল হওয়ায় অনেকেই লজ্জায় পরীক্ষা করাতে চান না, জানাতেও চান না। পরে এই রোগের ভয়াবহতার শিকার হন নারীরা। কেননা দেরিতে সনাক্ত হলে এই রোগের রোগীকে বাঁচানো কষ্টসাধ্য। তাই প্রয়োজন সচেতনতা।