চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির কার্যালয় অবস্থিত নগরের কাজির দেউড়িস্থ নুর আহম্মেদ সড়কের নাসিমন ভবনে। বছরের পর বছর এই ভবনেই দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে দলটি। এছাড়া দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদ শাসনামলে নুর আহমেদ সড়কেই হতো বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সমাবেশ, মহাসমাবেশ, শোভাযাত্রাসহ সকল কর্মসূচী। কেন্দ্রীয় বেশিরভাগ কর্মসূচী বলতে গেলেই এখান শুরু হয়ে নগরে ছড়িয়ে যেতো। তবে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ হামলা, মামলা, গুম, খুনের পাশাপাশি নিয়েছিল বেশ কিছু জঘন্য উদ্যোগ।
আর সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছিল সাবেক বিতর্কিত চসিক মেয়র (বিনাভোটে) রেজাউল করিম। তিনি বিএনপি কার্যালয়ের সামনেই স্থাপন করেন বিশাল এক ডাস্টবিন। যা দীর্ঘদিন আশেপাশের যেকোন কর্মসূচিতে দলটির নেতাদের বিব্রত করতো। সভা সমাবেশে আসে নেতাকর্মীদের তীব্র দুর্গন্ধ পোহাতে হতো। এতে অনেকেই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ভোগান্তিতে পড়তে হতো। বিএনপিকে ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ দিয়ে অতিষ্ঠ করতে গিয়ে আশেপাশের ব্যবসায়ীদেরও দীর্ঘ মেয়াদে চরম বেকায়দায় ফেলে হাসিনা। সেইসাথে বছরের পর বছর কাস্টমার বিহীন ব্যবসা করতে হয় টাইলস ব্যবসায়ীদের।
তবে সোমবার (২৮ এপ্রিল) এ ডাস্টবিনটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান নেতাকর্মীরা। এসময় তারা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে দাবি জানান।
এ বিষয়ে নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান বক্কর বলেন, পালিয়ে যাওয়া হাসিনা ও তার দল এমন কোন কর্মকাণ্ড বাদ রাখেনি যেটা দিয়ে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল, মহিলা দল তথা শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকদের দমিয়ে রাখা যায়। কিন্তু এতো কিছুর পরও দমিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। এখানে ডাস্টবিন দেয়ার কোন কথাই নেই, এটি একটি বাণিজ্যিক এলাকা এবং বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কার্যালয়। এখানে আগে কখনো ডাস্টবিন ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয় বার অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে ডাস্টবিনটি স্থাপন করে। এতে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বাড়ে।
আবুল হাসান বক্কর আরো বলেন, গতদিন অফিসে বসার সময় পাইনি। কিন্তু ৫ আগস্টের পর যখন বসতে শুরু করলাম তখন তীব্র দূর্গন্ধ আসতে থাকলো। পথচারীরা হেঁটে যেতে ও নাক চেপে যেতে হয়। ডাস্টবিনটিতে এমনভাবে ময়লা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হতো রাস্তার উপরও পড়ে থাকে। আমরা বর্তমান সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের কাছে ডাস্টবিনটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এসময় চসিকের একজন নারী কাউন্সিলরসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ডাস্টবিন সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।