চট্টগ্রাম বুলেটিন

পাহাড় কেটে ভবন, সিডিএ’র নামমাত্র অভিযান

চট্টগ্রাম নগরের আসকার দীঘির উত্তর পাড় এলাকায় পাহাড় কেটে অবৈধভাবে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে অভিযান পরিচালনা করেছে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। আদালতের স্থগিতাদেশ শেষ হলেই এ অভিযান পরিচালনা করে সংস্থাটি। তবে সেই অভিযানও হয়েছে নামেমাত্র ও লোক দেখানো। কোনমতে ভবনের টিনের ঘেরা ভেঙে ভবন ভাঙার নাম করে চলে গেছেন সিডিএ’ চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তারা।

সোমবার (২১ এপ্রিল) সকাল এগারোটার দিকে নগরের এস এস খালেদ রোডে সিডিএ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ভবনটিতে অভিযান শুরু হয়।

ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান স্বপ্নীল ফ্যামিলি ওনার্সের এসোসিয়েশন নামে ৯২ জনের উদ্যোগে সেখানে তিনটি আলাদা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।

২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল সিডিএ’র ইমারত নির্মাণ কমিটির কাছ থেকে তিনটি বেজমেন্ট ও ১৪ তলা (পাহাড়ে বেজমেন্ট হয় না; বাস্তবে তিনটি পার্কিং ফ্লোর, ১৪ তলা আবাসিকসহ মোট ১৭ তলা) ভবনের অনুমোদন নেওয়া হয়। তবে ৩০ কাঠা জমির ৬০ শতাংশ খালি রাখা, পাহাড় না কাটাসহ ৮৭টি শর্ত দিয়েছিল সিডিএ। এসব শর্তের কোনোটিরই তোয়াক্কা করেনি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ দীর্ঘ সময়ে সিডিএ নিরব ছিল। তাছাড়া পাহাড়ে ভবন করতে দেওয়ার অনুমোদন নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে সেসময়।

ইতিমধ্যে উঁচু টিনের ঘেরা দিয়ে কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে লোকচক্ষুর আড়ালে ৯২ ফ্যামিলির স্বপ্নীল সেখানে পাহাড় কেটে ছয় তলা ভবন নির্মাণ শেষ করেছে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, স্বপ্নীল ফ্যামিলি ওনার্স নামের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ভবনটি নির্মাণ করছে। পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি করায় সিডিএ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়। কিন্তু তারা এ নির্দেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসে। গতকাল (২০ এপ্রিল) তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। তাই আজ অভিযানে এসেছি। ভবন ভাঙার কাজ চলছে।

এর আগে, ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি ৯২ জনের নামে জমিটির নামজারি হয়। সিডিএতে জমা দেওয়া নথিতে দেখা যায়, জমিটি বাড়ি হিসেবে লিপিবদ্ধ। অথচ ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে এবং ২০১০ সালের সংশোধিত আইন অনুসারে এটি পাহাড়। আর এই আইন অনুসারে পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সচেতন মহলের অভিযোগ, সিডিএ’র অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পাহাড় শ্রেণি জানার পরও সেখানে ভবন গড়ার অনুমোদন দেয় তারা। যা গাছের আগা কেটে গোড়ায় পানি দেওয়ার মতো।

Tags :

সর্বশেষ