ফিলিস্তিনের গাজা ও রাফা শহরে ইজরায়েলী বাহিনী বর্বরোচিত গণহত্যার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে যাইতুন একাডেমি।
সোমবার (৭ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে বারোটায় পশ্চিম খুলশীর যাইতুন একাডেমী ক্যাম্পাস থেকে মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি নগরের টেরিনারি ও এনিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গেলে সেখানকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সংহতি জানিয়ে যোগ দেন। পরে ইউএসডিসি এলাকার সামনে ওই মিছিলটি জনসমুদ্র রূপ নেয়। সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে করা এ কর্মসূচিতে গাজাবাসীর পক্ষে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার৷ ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়। এ সময় তারা ইসরায়েল না ফিলিস্তিন, ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন, ইসরায়েল নিপাত যাক, আমেরিকা নিপাত যাক, উই ওয়ান্ট জাস্টিস, জেনোসাইট নো মোরসহ নানা স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন।
পরে অনুষ্ঠিত বিশাল মানববন্ধনে ভেটেরেনারি সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং যাইতুন একাডেমির শিক্ষক শিক্ষিকারা ফিলিস্তিনের মজলুম জনতার পক্ষে বক্তব্য রাখেন। তারা ইসরায়েলের মানবতাবিরোধী বর্বর আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, ইসরায়েল মানবতার শত্রু। তারা দুনিয়ার সকল ধরনের আইন লংঘন করে ফিলিস্তিনের ছোট্ট ছোট্ট শিশু ও মহিলাদের নির্বিচারে হত্যা করছে। জোর করে গাযাবাসীকে তাদের ভিটামাটি থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। পানি, বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। হাসপাতাল, মসজিদ পর্যন্ত ইসরায়েলের বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে। এম্বুলেন্সে হামলা করে ডাক্তারদের হত্যা করছে। সাংবাদিকদেরও নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে যাতে সঠিক খবর দুনিয়াবাসী না জানে। বক্তারা সারা দুনিবাসীকে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান।
এদিকে যাইতুন একাডেমির হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীরাও আছর নামাজ শেষে জালালাবাদ কেন্দ্রীয় মসজিদের মুসল্লিদের সাথে নিয়ে বিক্ষাভ মিছিল করেন। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন যাইতুন একাডেমির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আমিনুল হক। মিছিল শেষে তিনি সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও গাযাবাসীকে পরাজিত হতে দিব না। ফিলিস্তিন আমাদের সকলের। আমাদের কর্তব্য হচ্ছে, ইসরায়েলকে বয়কট করা। ইসরায়েলের পণ্য বয়কট করা। ফিলিস্তিনী ভাইবোনদের জন্য দোয়া অব্যাহত রাখা এবং ইসলায়েলের বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়া। ফিলিস্তিন স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের পাশে থাকতে হবে।