নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চট্টগ্রামের তারুণ্যের সমাবেশে তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনারা জেগে ওঠেছেন। আপনারাই পরাজিত করেছেন ফ্যাসিস্টকে। আপনারাই তাড়িয়েছেন তাকে দেশের বাইরে। সেই তরুণরা, আপনারা আবার জেগে ওঠুন। অধিকার আপনারা জোর করে কেড়ে নেন। মাথা ঠাণ্ডা রেখে সজাগ থেকে সমস্ত চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিতে হবে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে কোন কিছু করতে দেব না। আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের প্রশ্নে আমরা আপোষহীন।
চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড ময়দানে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। কেন্দ্রীয় বিএনপি’র দেশব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচির প্রথম সমাবেশ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানি। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএনিপর স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধান বক্তা ছিলেন, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, বিশেষ বক্তা ছিলেন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব,
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির ও স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজিব আহসানের যৌথ সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুবদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ইসরাফিল খসরু প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাই আমরা চট্টগ্রামকে আলাদা চোখে দেখি। দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমাদের জাতির উপর নির্যাতন করেছে। ৬০ লাখ মানুষকে মামলা দিয়েছে। ২০ হাজার মানুষ খুন করেছে। ১৭০০ মানুষকে গুম করেছে।
তিনি বলেন, আমাদের তরুণ নেতা যার দিকে আজ বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে। সেই তারেক রহমান দেশে আসতে পারেনি। সেই অবস্থার আজ অবসান হয়েছে। আমাদের নেতার পরিকল্পনায় আজ আমাদের তরুণ নেতারা সমবেত প্রচেষ্টায় সুন্দর একটি মহাসমাবেশ উপহার দিয়েছেন।
তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, হাসিনা পালিয়েছে। তাই না? কিন্তু তার প্রেতাত্মারা এখনো আছে। তারা এখনো ষড়যন্ত্র করছে। তাদের ষড়যন্ত্র সফল হবে? সমাবেশ থেকে একযোগে তরুণরা বলে ওঠেন, না না।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছি। আমাদের দেশকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে, তারা সেই কাজটি ঠিকমতো করতে পারছেন না। নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সমস্যাগুলো তাদেরকে সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে।
কিছু মানুষ সব ভুলে যায়। সব ভুলিয়ে দিতে চায়। মনে করে যে বাইরে থেকে লেখাপড়া করে এসে কিছু সুন্দর সুন্দর কথা বললে সব ভুলে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়। তার অধিকার প্রয়োগ করতে চায়। দেশে সত্যিকার অর্থে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
মির্জা ফখরুল আক্ষেপ করে বলেন, আজ একই সময়ে চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট এলাকায়ও অপর একটি সমাবেশ হচ্ছে, ঢাকায়ও হচ্ছে। তাদের দাবি হচ্ছে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। আমরা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ এই আওয়ামী লীগকে দেখতে চাইনা। কারণ এই আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পর থেকে এদেশের মানুষকে নির্যাতন করেছে। গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে। শুধুমাত্র ৪টি পত্রিকা রেখে বাকি সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল।
সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংস্কার সংস্কার বলেন। প্রথম সংস্কার করেছিলেন জিয়াউর রহমান। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা করেছেন। বিচার বিভাগকে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। অর্থনীতিকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। আজ পোশাক শিল্পের যে বিকাশ সেটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে হয়েছিল। সোজা হিসাব। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়। তারা কর্মসংস্থান চায়, ব্যবসা চায়। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চায়। আমাদের মায়েরা তাদের সন্তানদের লেখাপড়া শেখাতে চায়। কৃষক ভাইয়েরা ফসলের ন্যায্য মূল্য চায়। একটি গণতান্ত্রিক দেশ চায়। যেখানে আমি আমার কথা বলতে পারবো। অন্যজন তার কথা বলতে পারবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সেই যুদ্ধ শুরু করেছিলাম ১৯৭১ সালে। শহীদ প্রেসিডেন্টে জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেছিলেন একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক ও মুক্ত বাংলাদেশের জন্য। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা আপোষহীন মনোভাব নিয়ে জিয়া দীর্ঘ ৯ বছর গণতন্ত্রের সঙ্গীত গেয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়িয়েছেন গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য।
আমাদের নেতা তারেক রহমান এই তারুণ্যকে শিক্ষা দিচ্ছেন আসুন আমরা আধুনিক বিশ্বের উপযোগী একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি। একটি কথা সবসময় মনে রাখতে হবে, এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে কোন কিছু করতে দেব না। আমাদের নেতা কি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রশ্নে আমরা আপোষহীন। সবার আগে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মাথাটা উঁচু থাকবে।, পতাকাটা পতপত করে উড়বে। আমাদের সৌভাগ্য চট্টগ্রামের ছেলে তামিম উপস্থিত আছেন। এরকম অসংখ্য তামিম সে তৈরি করতে বলেছে।
চট্টগ্রামের মানুষকে স্যালুট জানাতে চাই। ওয়াসিম আকরাম যিনি ১৫ জুলাই চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। এই সরকার পাঠ্যপুস্তকে সাঈদসহ অনেকের নাম তুলেছেন। আমরা খুশি হয়েছি। কিন্তু ওয়াসিমের নাম না ওঠায় দুঃখ পেয়েছি। আশা করছি সেই ভুল সংশোধন করে তার নাম পাঠ্যবইয়ে সংযোজন করে নেবে। ম্যাডাম যেদিন ফিরে আসেন সেদিন দেখেছেন রাস্তায় লক্ষ মানুষের ভিড়। চট্টগ্রামেও লাখো মানুষের সমাবেশ হয়েছে। জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।