চট্টগ্রাম বুলেটিন

মায়ের জন্য ওষুধ নিয়ে ফেরা হয়নি রিয়ার

প্রতিদিনের মতো অফিস শেষ করে লোকাল বাসে বাসায় ফিরছিলেন রিয়া মজুমদার। অফিস থেকে নেমেই মাকে কল দেওয়া রিয়ার রুটিন কাজ। হ্যালো, মা তোমার কেমন লাগছে? কিছু লাগবে? ওপাশ থেকে মা বললেন, মা, ভালো না রে, তুই তাড়াতাড়ি আয়, পারলে আমার জন্য গ্যাসের আর প্রেশারের ওষুধটা নিয়ে আসিস। আচ্ছা মা ঠিক আছে রাখো, আর তুমি কিছু খাবে? তুই যা মন চায় আনিস। ঠিক মা রাখো আমি তাড়াতাড়ি আসছি। এ কথা বলেই আগ্রাবাদের একটি ফার্মেসী থেকে ওষুধ নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন রিয়া। কিন্তু কে জানতো মায়ের জন্য ওষুধ আর খাবার নিয়ে রিয়া ফেরা হবে না? মাতো রিয়ার পথ চেয়ে বসেছিল। রিয়ার মা ভাবেনি তার মেয়ে এতো তাড়াতাড়ি ফিরবে নিথর দেহ হয়ে। রিয়া তার মায়ের কথা রেখেছে। মায়ের কাছে ফিরেছে ঠিকই কিন্তু জীবিত নয় মৃত হয়ে কাঠের কফিনে। রিয়ার আইডি কার্ড, পোশাক ও সেই ব্যাগ সব জায়গায় রক্তের ছাপ।

সোমবার রাত তখন প্রায় আটটা। চারপাশে যানজটের ঘনঘটা, লাইট-হর্ন-ব্যস্ততার শহুরে চারিদিকে কোলাহল। তারই মাঝে নগরের লালখান বাজারে বাস থেকে নামছিলেন রিয়া মজুমদার (২৪)। সঙ্গে ছোট একটা ব্যাগ। ব্যাগে ছিল ওষুধ, মায়ের জন্য কেনা ওষুধ ছিলো সেই ব্যাগেই।

অফিস শেষে তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে পড়েছিলেন, যেন সময়মতো মায়ের হাতে ওষুধগুলো পৌঁছে দিতে পারেন। বাস থেকে নামতেই এক মুহূর্তের অসতর্কতা, পা হড়কে সামান্য পিছলে পড়ে আরেক বাসের চাপায় পিষ্ট হন এই নারী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সীতাকুণ্ড থেকে ছেড়ে আসা ৭ নম্বর বাস (চট্টমেট্রো ছ ১১-১৬১৫) থেকে লালখান বাজার মোড়ে নামার সময় হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যান রিয়া। তখনই পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা ২ নম্বর বাস (চট্টমেট্রো জ ১১-১৪১৬) তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

রিয়ার সহকর্মীরা জানাচ্ছেন, তিনি গোল্ডস্যান্ডস গ্রুপ নামে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। দিনশেষে অফিস থেকে বেরিয়ে মায়ের ওষুধ কিনেছিলেন আগ্রাবাদ ফার্মেসি থেকে। কিন্তু সেই ফোন আর বাজবে না। আর কোনও সন্ধ্যায় ফিরবেন না রিয়া।

কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছি৷ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসটি জব্দ করেছি তবে চালক পালিয়েছে।

Tags :

সর্বশেষ