চট্টগ্রাম বুলেটিন

সাগরপথে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ ফেরি চলাচল শুরু, ৪ লাখ মানুষের স্বপ্ন পূরণ

শাহাদাত, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম):

কখনো কখনো কোমর সমান পানি কিংবা হাঁটু পরিমাণ কাদা মাড়িয়ে হামাগুড়ি দিয়ে নীড়ে ফেরা ছিল সন্দ্বীপের মানুষের ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। সেই শত বছর ধরে এভাবেই চলছিল সন্দ্বীপের মানুষের যাতায়াতের এই দুরবস্থা। তবে এবার কাঁদা বা পানি মাড়িয়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার দিন শেষ হলো সন্দ্বীপবাসীর। এতে করে সন্দ্বীপের মানুষের যাতায়াতের দুঃখ দুর্দশা একদিকে যেমন ঘুচবে, তেমনি খুলবে সম্ভাবনার নতুন দ্বার। যাতায়াত ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় এবার পর্যটকে মুখরিত হবে দ্বীপটিতে। এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

শতশত বছরের দুঃখ ঘুচাল এবার, এ যেন এক স্বপ্নের ফেরি। সীমাহীন এই দুর্ভোগের পর অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত নৌ-পথে ফেরি উদ্ভোধনের পর চালু হলো আজ সোমবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া থেকে। দেশের মূল ভূ-খণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ এই সন্দ্বীপ উপজেলা। এবার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিনের সূচনা হওয়ায় দ্বীপের মানুষ আনন্দিত।

চট্টগ্রাম জেলার সড়ক অবকাঠামো থেকে নৌপথে নির্বিঘ্নে প্রায় ১০ মাইল পাড়ি দেওয়ার জন্য চালু হলো এই ফেরি সার্ভিস। যুগ যুগ ধরে যাত্রাপথের সীমাহীন ভোগান্তি, প্রাণহানি, আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতির বেড়াজাল পেরিয়ে প্রাপ্তির সূচনায় উচ্ছ্বাসের ঢেউ লেগেছে সন্দ্বীপবাসীর। প্রাণের জনপদ নিয়ে তারা এখন বুনছেন নতুন নতুন স্বপ্ন।

এর আগে ফেরির কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে অবশ্য কর্মকর্তারা বলেছিলেন, সেপ্টেম্বরে এ রুটের জন্য আসবে নতুন এক সি ট্রাক। তখন সেটি দিয়েই চলবে ফেরির কার্যক্রম।

এ উপলক্ষে সোমবার উদ্ভোধনী অনুষ্টান শেষে বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া ফেরি পথে অন্তর্বর্তী সরকারের ৬ জন উপদেষ্টা যান সন্দ্বীপে। ফেরি চালুর এ কার্যক্রমে তাই দারুণ উচ্ছ্বসিত দ্বীপের প্রায় ৪ লাখ মানুষ। পাশাপাশি আছে না শঙ্কাও। এই সার্ভিস দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই হয়, উত্তাল বর্ষায় এটা কতটা সেবা দিতে পারবে এসব নিয়ে তাদের মনে আছে নানা প্রশ্নও।

সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেরার বাঁশবাড়িয়া ঘাটে এই ফেরি সেবার উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ড. এম শাখাওয়াত হোসেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া থেকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া পর্যন্ত চলাচল করবে এই ফেরি সেবা। সোমবার সকাল ৯টায় প্রথমবারের মত ফেরি যাত্রা করে সন্দ্বীপের উদ্দেশ্যে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সন্দীপের কৃতি সন্তান, খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফয়জুল কবির খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা বীর প্রতীক ফারুক-ই আজম, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মিজ ফরিদা আখতার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

ফেরি চালু উপলক্ষে সোমবার থেকে ঢাকা-সন্দ্বীপ রুটে (চ্যানেল) বিআরটিসির বাস চলাচলও উদ্বোধন করেন উপদেষ্টারা।

এছাড়া সোমবার থেকে চট্টগ্রামের এয়ারপোর্ট- সি বিচ- নিমতলা- নয়াবাজার-কুমিরা-বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট- সন্দ্বীপ এনাম নাহার মোড় রুটেও এসি বাস সেবা চালু করেছে বিআরটিসি।

এছাড়া এ উপলক্ষে সন্দ্বীপ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

গত বছরের ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান সন্দ্বীপের সন্তান মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। উপদেষ্টা ফাওজুলের তদারকিতে অবকাঠামো নির্মাণ ও ফেরি সার্ভিস চালুর কার্যক্রমে গতি আসে।

সন্দীপের গাছুয়ার বাসিন্দা সুমন নামে একজনের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, সন্দ্বীপে নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন তিনি ও তার পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। যতবারই সন্দ্বীপ গেছেন, ততবারই ভোগান্তি ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। মাড়াতে হতো কাদামাটিও। তাছাড়া জোয়ার ভাটার কারণে বেশিরভাগ সময় নৌযান থেকে নেমে কাদা পেরিয়ে ঘাটে পৌঁছাতে হয় সন্দ্বীপবাসীকে। স্পিড বোটে পারাপারে ছিল ঝুঁকি। ভাড়াও ছিল ২৫০ টাকা। লঞ্চ পাওয়া কষ্টকর ছিল। এবার প্রাইভেট কার নিয়ে যাব পরিবারসহ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাঁর মতো সন্দ্বীপের চার লাখ মানুষ এ দুর্ভোগ থেকে অবশেষে মুক্তি পেয়েছি। পূরণ হলো স্বপ্নও। পাশাপাশি নিরাপদ যাতায়াতের কারনে পর্যটক বাড়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।

সূত্র জানিয়েছে, প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে সন্দ্বীপে। এই বিপুল জনগোষ্ঠি জীবন বাজী রেখে নৌ পথে চলাচল করে। সন্দ্বীপ এবং সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ঘাট ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করেন। চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সাথে সন্দ্বীপের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যমই হচ্ছে এই নৌপথ। কিন্তু সুষ্ঠু কোন নৌ রুট বা অবকাঠামো গড়ে না উঠায় হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ প্রতিদিনই চরমে পৌঁছে। নৌডুবিতে প্রাণহানীর ঘটনাও কম ঘটেনি। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে তাদের স্বপ্নের ফেরি।

তবে বিআইডব্লিউটিএ মনে করছে বর্ষাকালে ঝুঁকি থাকবে এ ফেরিতে। তাই বিকল্প ভাবনাও আছে তাদের পরিকল্পনায়। সেটিও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন। এর আগে ফেরির কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে অবশ্য কর্মকর্তারা বলেছিলেন, সেপ্টেম্বরে এ রুটের জন্য আসবে নতুন এক সি ট্রাক। তখন সেটি দিয়েই চলবে ফেরির কার্যক্রম।

জানা গেছে, সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ রুটে ফেরি চলাচল কার্যক্রম শুরু করতে সন্দ্বীপের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান মিতাও চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হননি। তিন বছর ধরে বারবার সাইট নির্ধারণ ও পরিবর্তন, ফেরি সার্ভিস চালুর জন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তহীনতার মধ্যেই এসে গেছে ৫ আগস্ট। এরপর তিনি চলে যান আত্মগোপনে। দৃশ্যপটে আসে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারেরই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন ফাওজুল কবির খান। তিনি সন্দ্বীপেরই সন্তান। তাই দায়িত্ব নেওয়ার পরই সন্দ্বীপবাসীর দুর্দশা দূর করতে আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নেন তিনি। বারবার পরিদর্শন করেন প্রকল্প এলাকা। লক্ষ্যে অটল থাকাতে শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছেন। পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে পেরেছেন ফেরি সার্ভিস।

বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া নৌপথে ফেরি সার্ভিস চালু করতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে- এমন প্রশ্নের জবাবে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, বর্ষা মৌসুমে এখানে সমুদ্র উত্তাল থাকে। জোয়ার-ভাটার তারতম্য ৩ থেকে ৪ মিটার এমন জায়গায় দেশে কোথাও ফেরি নেই। সন্দ্বীপে প্রথমবারের মতো হলো। এখানে অনেক বড় চ্যালেঞ্জও আছে। আশা করি, সব জয় করতে পারব আমরা।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ এর আগে বলেন, আমাদের কাছে ছয়টি ফেরি আছে, সেখান থেকে একটি এখানে চলবে। মার্চের পর এখানে এই ফেরিগুলো চলবে না। সার্টিফাই করা ছয়টি নতুন সি ট্রাক বানানো হচ্ছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সেগুলো পেয়ে গেলে ১টি এ রুটের জন্য দেওয়া হবে।’

এদিকে এখন চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ রুটে সরাসরি এই ফেরি সেবা চালুর মধ্য দিয়ে সন্দ্বীপবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণ হলো। বাস, ট্রাক, ট্যাংক লরি, মিনিবাস, প্রাইভেট কারসহ সব ধরনের যানবাহন সরাসরি দ্বীপে পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সন্দ্বীপবাসীর জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ারও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

নির্ধারণ করা হয়েছে ভাড়াও
ফেরিতে চলাচলের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে- সাধারণ যাত্রী ১০০ টাকা, মোটরসাইকেল ২০০ টাকা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৫০০ টাকা, ব্যক্তিগত গাড়ি ৯০০টাকা, বাস ৩ হাজার ৩০০ টাকা, ট্রাক ৩ হাজার ৩৫০টাকা এবং ১০ চাকার গাড়ি ৭ হাজার ১০০ টাকা।
এছাড়া এক টন পর্যন্ত পণ্যবাহী যানবাহন বড় ট্রাক/ট্যাঙ্ক লরি কাভার্ডভ্যান (৮ টনের অধিক ১১ টন পর্যন্ত) ১৩০০ টাকা, ছোট ট্রাক/কাভার্ডভ্যান/লরি (১ টনের অধিক ৩ টন পর্যন্ত) ১৫০০ টাকা, ট্রাক/ট্যাঙ্ক লরি/ কাভার্ডভ্যান (৩ টনের অধিক ৫ পর্যন্ত) ১৬০০ টাকা, ৫ টনের অধিক ৮ টন পর্যন্ত ২০০০ টাকা, ৮ টনের অধিক ১১ টন পর্যন্ত ২৭০০ টাকা, দশ চাকা বিশিষ্ট সাধারণ পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রে (গ্যাস, বিস।

এরআগে গত ১৯ মার্চ দুপুরে নির্ধারিত ফেরি ‘কপোতাক্ষ’ পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া প্রান্ত থেকে যাত্রা করে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো সন্দ্বীপের যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন ইতিহাসের সূচনা হয়। ফেরি আসার খবরে সেদিন সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া প্রান্তে শত, শত মানুষ প্রবল আগ্রহ নিয়ে ভিড় জমায়। এরপর ২৪ মার্চ থেকে ওই রুটে নিয়মিত ফেরি চলাচল শুরুর ঘোষণা দেয় বিআইডব্লিউটিএ।
বঙ্গোপসাগর পাড়ের দ্বীপ উপজেলা চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ। বঙ্গোপসাগরের আরেক তীরে চট্টগ্রামের স্থলভাগ সীতাকুণ্ড উপকূল থেকে নৌপথে সন্দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ১০ মাইল। মাঝে বঙ্গোপসাগরের চ্যানেল। নৌপথ পাড়ি দিয়ে সন্দ্বীপ পৌঁছানো রীতিমতো যুদ্ধের মতো ছিল বিচ্ছিন্ন এ জনপদের মানুষের। মৌসুমের স্বাভাবিক সময়ে ছোট-বড় নৌযানে কোনোমতে সন্দ্বীপ পৌঁছানো গেলেও তীরে নেমে দীর্ঘ কাদায় ঢাকা পথ পাড়ি দিয়ে মূল সড়কে উঠতে হতো যাত্রীদের। আর বর্ষাকালে সাগর উত্তাল থাকলে সন্দ্বীপ পৌঁছানো রীতিমতো দুঃসাধ্য ছিল। অনেকটা প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করতেন যাত্রীরা।
বিআইডব্লিউটিএ এর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপে যেতে বা সেখান থেকে আসতে একবারে এক ঘণ্টা ১০ মিনিটের মত সময় লাগছে। জোয়ার-ভাটা হিসেব করে প্রতিদিন যাওয়া-আসা মিলিয়ে মোট চারবার ফেরি চলাচলের কথা আছে।
কামরুজ্জামান আরও বলেন, ফেরিতে একবারে ছোট বড় মিলিয়ে ৩৫টির মতো যানবাহন পরিবহন করা যাবে।

ইম্প্রুভড মিডিয়াম টাইপ ফেরি ‘কপোতাক্ষ’র মাস্টার সামশুল আলম সাইফুল বলেন, ফেরিতে যানবাহনের পাশাপাশি ৬০০ জন মানুষ চলাচল করতে পারবে।

উত্তাল এই সাগর পথে স্পিডবোট ও ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযানে চলাচল করতে হয় দ্বীপের বাসিন্দাদের। বিরূপ পরিবেশে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনায় অনেক প্রাণহানিও ঘটেছে। ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল সীতাকুণ্ড থেকে সন্দ্বীপ উপকূলে পৌঁছানোর পর সি-ট্রাক থেকে যাত্রী নামানোর সময় ‘লালবোট’ (উপকূলে যাত্রী নামানোর ছোট নৌকা) ডুবে ১৮ জন প্রাণ হারান। এ ঘটনা ‘সন্দ্বীপ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল স্পিডবোট ডুবে একই পরিবারের তিন শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়। বছরের ১৯ আগস্ট কাঠের তৈরি ট্রলার থেকে নামতে গিয়ে সাগরে পড়ে এক ব্যক্তি মারা যান।

Tags :

সর্বশেষ