চট্টগ্রাম বুলেটিন

সাতকানিয়ায় ডাবল মার্ডার, সংবাদ সম্মেলনে যা বলল পুলিশ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মসজিদের মাইকে ডাকাতির কথা প্রচার করে গণপিটুনিতে দুজনকে হত্যার পর সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা পুলিশ। এতে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, সাতকানিয়ায় নিহত ২ জনকে গণপিটুনির আগে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র দিয়ে গুলি ছোড়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ যে পিস্তলটি উদ্ধার করেছে সেটি নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া পিস্তল। আর এই পিস্তল দিয়েই গুলি ছুড়েছিলেন নিহত নেজাম উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দুপুরে নগরের দুই নম্বর গেইটস্থ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম। মূলত রাউজানে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা পুলিশ।

জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নগরের আটটি থানা ও আটটি ফাঁড়িতে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। ওই সময় ৮১৩টি অস্ত্র ও ৪৪ হাজার ৩২৪ গুলি লুট হয়। এসব অস্ত্র ও গুলির বেশির ভাগই এখনো উদ্ধার হয়নি বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশের অনেক অস্ত্র লুট হয়ে গেছে। এ অস্ত্রগুলো কাদের কাছে কিভাবে গেল?। সে বিষয়ে অনেক প্রশ্ন। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণেই সাতকানিয়ার নেজাম ও সালেক খুন হয়েছেন। ঘটনার দিন তারা সাতটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে সেখানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অস্ত্র দেখান। তারা চাঁদার জন্য নিয়মিত সেখানে যেতেন বলে পুলিশ তথ্য প্রমাণ পেয়েছে। চার থেকে পাঁচ দিন আগেও তারা সেখানে গিয়ে এক ইউপি সদস্যের স্ত্রীকে থাপ্পড় মেরেছিলেন। এসব কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তাদের নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গণপিটুনির ঘটনায় অনেকে একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যানের উপস্থিতি ও তার জড়িত থাকার কথা বলছেন। কিন্তু আমরা আসলে তার কিংবা তার রাজনৈতিক দলের তেমন কোন শক্তি প্রদর্শনের তথ্য প্রমাণ পাইনি।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘কোনো অবস্থায় ভাবার সুযোগ নেই, প্রশাসন নির্বিকার হয়ে গেছে। আমরা আমাদের মতো প্রকৃত সত্য ঘটনা উদ্‌ঘাটনের জন্য যা কিছু দরকার, সবকিছু করব। সে জন্য একটু সময় নিচ্ছি। প্রকৃত ঘটনা কী, সেটা আমাদের উদ্‌ঘাটন করা দরকার। পুলিশ জানায়, নিহত সালেকের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, বিস্ফোরকসহ পাঁচটি ও নেজামের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।

গত সোমবার (৩ মার্চ) রাতে উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলা পশ্চিমপাড়া এলাকায় মসজিদের মাইকে ডাকাত এসেছে ঘোষণা দিয়ে দুই ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই দুজন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের মধ্যম কাঞ্চনা এলাকার মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন (৪৫) ও একই ইউনিয়নের গুরগুরি এলাকার মোহাম্মদ সালেক (৩৫)। ঘটনায় স্থানীয় এক দোকানিসহ চার ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

এদিকে নিহত সালেক জুলাই বিপ্লবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি বেশকিছু ছবি ও ভিডিও তিনি নিজের আইডিতে পোস্ট করেছেন। হত্যার শিকার হওয়ার পর তার সেসব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাসছে।

জামায়াতে ইসলামীর সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের সেক্রেটারি জায়েদ হোছেন বলেন, নিহত দুজন জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। একটি সালিসী বৈঠকের কথা বলে তাদের এওচিয়া এলাকায় ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দুজনের মাথায় পর্যায়ক্রমে আঘাত করা হয়।

তবে জামায়াতের উপজেলা আমির মাওলানা কামাল উদ্দিন বলেন, নিহত ব্যক্তিরা জামায়াতের তালিকাভুক্ত কোনো কর্মী নন। তবে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় যেহেতু জামায়াতের জনসমর্থন বেশি রয়েছে, সে হিসেবে হয়তো তারাও জামায়াতকে ভালোবাসতেন।

এর আগে ইউনিয়ন জামায়াত থেকে এই দুজনকে কর্মী স্বীকার করে বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানেও বলা হয় আওয়ামী লীগের মানিক চেয়ারম্যান পূর্বের মতো পরিকল্পিতভাবে তাদেরকে হত্যা করেছে। এ হত্যার জনঢ় মানিক দায়ী।

Tags :

সর্বশেষ