চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বহু অপকর্মের হোতা উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার শাহাব উদ্দিনকে (৩৪) র্যাাব সেভেন সাতকানিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করেছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে এলাকায় চাঁদাবাজি ও জায়গা দখল সহ নানান অপকর্মের হোতা শ্রমিক লীগের এই নেতার বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।
জানা যায়, উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত নুর মিয়ার ছেলে এক নাম্বার ওয়ার্ডের মেম্বার ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিনকে ৩০ মে র্যাব সেভেন হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার করে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করে। সীতাকুণ্ড উপজেলা যুবদলের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনার মামলায় এজাহারভুক্ত ভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে ৩১ মে শনিবার চট্টগ্রাম আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে বাঁশবাড়িয়া এলাকায় বিএনপি জামাত সহ তার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিতেন। শ্রমিক লীগের এই নেতার স্ত্রী পুলিশের এএসআই পদে চট্টগ্রামে একটি থানায় কর্মরত আছেন। তার স্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় সে আরো বেপরোয়া হয়ে এলাকায় এমন কোন অপকর্ম নেই যা তিনি করেননি। বিগত ৫ জুলাই সরকার পতনের পরেও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভোট চোর চেয়ারম্যান শওকত আলী জাহাঙ্গীরসহ শ্রমিকলীগের প্রভাবশালী নেতা শাহাব উদ্দিন ও ৯জন মেম্বার স্থানীয় বিএনপি’র দুই নেতাকে ম্যানেজ করে মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে তাদের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগেরই নেতারা এলাকায় অবস্থান করে পরিষদে অফিসও করেছিলেন।
বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি সালামত উল্লাহ বলেন, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম এবং শাহাব উদ্দিন সহ ৯জন মেম্বার বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে অবৈধ পন্থায় শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপি’র একজন ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির অপর একজন সিনিয়র নেতাকে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে তাদের ছত্রছায়ায় ৫ আগাস্ট জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরও শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেম্বার শাহাব উদ্দিন সহ ৯জন মেম্বার ও চেয়ারম্যান এলাকায় অবস্থান করে ইউনিয়ন পরিষদে অফিসও করেছেন। পরবর্তীতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতিরোধের মুখে আওয়ামী লীগের এই নেতারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। আওয়ামীলীগ নেতা ও চেয়ারম্যানের সাগর থেকে বালু তোলার কয়েকটি ড্রেজারসহ ব্যবসা-বাণিজ্য বর্তমানে এলাকার বিএনপির দুই নেতা পরিচালনা করে আসছেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ডাক্তার কমল কদর আমার দেশকে বলেন, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি সালামত উল্লাহ আমাকে বলেছেন, শ্রমিক লীগের প্রভাবশালী নেতা শাহাব উদ্দিন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ ৯ জন মেম্বার মোট অংকের টাকার বিনিময় ওই এলাকার বিএনপির কয়েকজন নেতাকে ম্যানেজ করে আওয়ামীলীগের নেতারা তাদের বসত বাড়িতে অবস্থান করে রীতিমতো ইউনিয়ন পরিষদে অফিসও করেছেন। আওয়ামী সরকারের আমলে দীর্ঘ বছর যাবত মেম্বার শাহাব উদ্দিনের বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচার এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। অবশেষে তার গ্রেপ্তারের সংবাদে এলাকায় জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সীতাকুণ্ড থানার এসআই বেলাল হোসেন বলেন, শ্রমিক লীগের নেতা শাহাব উদ্দিন যুবদলের একটি অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনার এজাহারভুক্ত আসামি। র্যাব সেভেন হাটহাজারী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাকে কআদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।