চট্টগ্রাম বুলেটিন

সাড়ে চার মাস পর কারামুক্ত হয়েই তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করার প্রত্যয় ছাত্রদল নেতা সাইফুলের

সাড়ে চার মাস কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সাইফ। বুধবার রাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি লাভ করেন।
কারাফটক থেকে বের হওয়ার পর বায়েজিদ থানা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ সংবর্ধনা জানান।

কারামুক্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, “সকল ষড়যন্ত্রের জাল ভেদ করে মহান আল্লাহর রহমতে আজ জামিনে মুক্ত হয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে জাতীয়তাবাদী আদর্শকে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে দেশনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে আমরা মাঠে কাজ করে যাব।”

নেতাকর্মীরা জানান, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে পা হারানো এই ছাত্রদল নেতা কারাগারে অন্তরীণ থেকেও নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে ভূমিকা রেখেছেন। কারাবন্দি অবস্থাতেও তিনি ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের নানা দিক-নির্দেশনা দেন। এমনকি আদালত চত্বরে প্রিজন ভ্যান থেকে উচ্চকণ্ঠে ‘ধানের শীষ’ স্লোগান দিয়ে তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন তিনি।

এলাকাবাসী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, আকবরশাহ ও চান্দগাঁও এলাকার সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকায় সাইফুল ইসলাম সাইফ স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ‘সুখে-অসুখের সাথী’ হিসেবে পরিচিত।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে ডিবি পুলিশ ঢাকার গুলশান থেকে তাকে তুলে নেয়। ১২ ঘন্টা গোপনের পর পুলিশ মিডিয়ার চাপে সাইফুলকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য হয়। সাইফুলের পরিবারের অভিযোগ, স্বৈরাচারী আমলে পুলিশের গুলিতে পা হারানোর পর ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন সাইফুল। সেই মামলা প্রত্যাহার করার জন্য তাকে দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ও পঙ্গুত্ব বরণ করেও তিনি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি এবং মামলা প্রত্যাহারে রাজি হননি। আর এই মামলা না তোলার প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা থেকেই তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

দীর্ঘ কারাভোগের পর প্রিয় নেতার মুক্তিতে বায়েজিদ ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের জুনে বায়েজিদ বোস্তামী থানার তৎকালীন ওসি কামরুজ্জামান মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাইফকে সোর্স দিয়ে ডেকে তুলে নিয়ে যান। পরে নগরের বায়েজিদের লিংক রোড় পাহাড়ে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করে পুলিশ৷ হাসপাতালে নেওয়া হলে সাইফুলের বাম পা কেটে ফেলা হয়৷ এরপর বিএনপি’র পক্ষ থেকে তাকে কৃত্রিম পা স্থাপনে সহযোগিতা করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

 

Tags :

সর্বশেষ