চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের
ভোট গ্রহণের একদিন আগে একতরফা নির্বাচনের আয়োজনের অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটি থেকে জামায়াতপন্থী সাত আইনজীবী পদত্যাগ করেছেন।
বুধবার বিকেলে তারা সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। একই সঙ্গে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সমিতির নির্বাচনের দিন কালো পতাকা প্রদর্শন ও ভোট বর্জনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন তারা। পদত্যাগের বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আব্দুস সাত্তার নিশ্চিত করেছেন।
পদত্যাগকারী আইনজীবীরা হলেন, সমিতির সহ-সভাপতি আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারী, আইটি সম্পাদক আব্দুল জব্বার এবং সদস্য মুহাম্মদ মুরশেদ, রুবাইয়াতুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন ও মোহাম্মদ শাহেদ।
পদত্যাগপত্রে তারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৫-২৬ কার্যকরী কমিটির দায়িত্ব ছিল সমিতির দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে ‘একতরফা ও একদলীয় প্রহসনের নির্বাচন’ আয়োজন করা
তাদের ভাষ্য, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের সভাপতিসহ প্রায় সব সম্পাদকীয় পদে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি অপর প্যানেলের প্রার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি। এতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
<span;>পদত্যাগপত্রে আরও বলা হয়, এমন ‘প্রহসনের নির্বাচনের’ দায় তারা নিতে পারছেন না। সংকট নিরসনে সমিতি ব্যর্থ হওয়ায় কার্যকরী কমিটিতে দায়িত্ব পালন তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এদিকে জামায়াতপন্থীদের সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’-এর সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুল আলম এক বিবৃতিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় নগরের সোনালী ব্যাংকের সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সেখানে কালো পতাকা প্রদর্শন, ‘ঘৃণা প্রকাশ’ ও ভোট বর্জনের কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত ৭ মে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করা ও কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। পরে নির্বাচন বাতিল চেয়ে রবিবার প্রথম যুগ্ম সিভিল জজ আরাফাতুল রাকিবের আদালতে মামলা করেন আটজন আইনজীবী।
ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলম বলেন, আমরা আগেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি। এরপরও আইন অনুসারে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় বর্তমান নির্বাচন কমিশন অবৈধ। তবুও জোর করে একতরফা নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে বর্তমান কমিটি থেকে সাতজন আইনজীবী পদত্যাগ করেছেন।
নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সহ-সভাপতি ও ১১টি সদস্য পদে মোট ২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য নয়টি পদে একজন করে প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। এ নির্বাচনে ভোটার রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার। এবার নির্বাচনে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বাধায় মনোনয়ন সংগ্রহ করতে পারেনি আওয়ামীপন্থী আইনজীবী। এর প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবারও বিক্ষোভ মিছিল করে আওয়ামীপন্থীরা।