চট্টগ্রাম বুলেটিন

ইউএনজিএ অধিবেশনে ড. ইউনূসের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল — প্রেস সচিব

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, এই সফরের মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবিক সংহতি এবং গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার নতুনভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় শফিকুল আলম প্রধান উপদেষ্টার ইউএনজিএ সফরের বিভিন্ন সাফল্য ও কূটনৈতিক অর্জন তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ড. ইউনূস গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ইউএনজিএর উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ভাষণ দেন, বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন এবং গণতন্ত্র, মানবিক নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন।

ইউএনজিএর ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক শাসন ব্যবস্থার প্রতি সরকারের অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ স্বাধীন, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, এবং জনগণ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্মিলিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সম্মান জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সফরে তিনটি রাজনৈতিক দলের ছয়জন প্রতিনিধি অংশ নেন। এটাই প্রথমবার, এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিনিধি দল একসঙ্গে ইউএনজিএ সফরে অংশগ্রহণ করেছে। তারা প্রবাসী সম্প্রদায়, কূটনীতিক এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠক বিশ্বের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে—বাংলাদেশ আজ ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক, স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অগ্রসর হচ্ছে।

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, ড. ইউনূস একাধিক কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন যা বাংলাদেশের বৈশ্বিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং যৌথ অগ্রাধিকারের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও জানান, ইতালি, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, আলবেনিয়া, কসোভো ও ভুটানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে গণতান্ত্রিক শাসন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জলবায়ু সহনশীলতা এবং মানব উন্নয়ন ইস্যু গুরুত্ব পায়।

এই সফরের মাধ্যমে, প্রেস সচিবের মতে, বাংলাদেশ শুধু বৈশ্বিক অঙ্গনে নিজেদের কণ্ঠ আরও জোরালো করেছে তাই নয়, বরং এক নতুন আস্থার বার্তা দিয়েছে যে দেশটি গণতন্ত্র ও মানবিক সংহতির পথে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছে।

Tags :

সর্বশেষ