চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত বারৈয়াঢালা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি প্রকৌশলী আনোয়ার হোসাইন। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাদে আছর উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের পূর্ব ধর্মপুর গ্রামের মসজিদে নামাজে জানাযা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়৷
এর আগে আছরের নামাযের সময় থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি, জামায়াত, শিবির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা পূর্ব ধর্মপুরে আসতে থাকে। নামাজের পর জানাযার মাঠে আনোয়ার হোসাইনকে শেষ বারের মতো দেখতে দলে দলে ভিড় করেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এতে উপস্থিত হন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহজাহান চৌধুরী৷ এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমীর নজরুল ইসলাম, মহানগর সেক্রেটারী নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী আলাউদ্দীন সিকদার, সাংগঠনিক সেক্রেটারী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি ইউসুফ বিন আবুবক্কর, সেক্রেটারী জসিম উদ্দিন আজাদ, সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, সেক্রেটারী রাশেদুজ্জামান মজুমদার, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী কুতুব উদ্দিন শিবলী, ছাত্র শিবিরের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি সাজেত চৌধুরী, সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক ডা. কমল কদর ও মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমীর নুরুল কবির। এছাড়াও জানাজায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গ সংগঠনের সকলস্তরের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা উত্তর বক্তব্যে মাওলানা শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মো. আনোয়ার হোসাইন ইসলামী আন্দোলনের একজন তেজোদ্দীপ্ত ও দুঃসাহসী সৈনিক ছিলেন। স্বৈরাচারী সরকারের সকল জুলুম নির্যাতন উপেক্ষা করে তিনি বারৈয়াঢালার মত উত্তপ্ত ময়দানে কাজ করেছেন। তিনি আমাদের মাঝ থেকে এভাবে চলে যাবেন তা ভাবতেও পারিনি। আমরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকাহত এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আল্লাহ যেন তাঁর পরিবারকে এই শোক সইবার তৌফিক দেন
উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা বলেন, জামায়াত নেতা আনোয়ার হোসাইনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে উপজেলা জামায়াত একনিষ্ঠ একজন দায়িত্বশীলকে হারাল। এ ক্ষতি নি: সন্দেহে অপূরণীয়। ইসলামী আন্দোলনের জন্য তাঁর ত্যাগ, তীতিক্ষা অপরিসীম। ছাত্র জীবনে শিবিরের সাথী ছিলেন। পরবর্তীতে জামায়াতের রোকন হিসেবে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান মেনে আল্লাহর আইন কায়েমের আন্দোলনে নিজেকে মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন৷ রেখেছেন অসামান্য ভূমিকা। আওয়ামী দু:শাসনের গেল ১৭ বছরে সীমাহীন জুলুমের শিকার হয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল বাংলার জমিনে ইসলামী রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। আমরা তাঁর রেখে যাওয়া কাজের আঞ্জাব দিব ইনশাআল্লাহ।
প্রবাসী জামায়াত কর্মীরা বলেন, আমরা বড়ই দুভাগ্যবান৷ আনোয়ার হোসাইন ভাই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তুু ওনাকে দেখার সুযোগ হয়নি। তাঁর ব্যবহার, নীতি-নৈতিকতা, সংগঠনের জন্য দরদ বলে শেষ করা যাবে না। আমরা একজন নিবেদিত প্রাণকে হারিয়ে ফেললাম।
এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় সীতাকুণ্ডের পন্থিছিলায় সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন জামায়াত নেতা আনোয়ার হোসাইন। সকালে পারিবারিক কাজ শেষ করে সংগঠনের একটি কর্মসূচীতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তুু কে জানতো সেই যাত্রাই হবে শেষ যাত্রা। এদিকে তাঁর মৃত্যুতে পুরো সীতাকুণ্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা, উপজেলা জামায়াত ও শিবির নেতৃবৃন্দ শোক বিবৃতি দিয়েছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।