চট্টগ্রাম বুলেটিন

জামায়াত নেতা আমিন হত্যার আসামি ছাদাকাত উল্লাহ গ্রেপ্তার

সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিনা ভোটে তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান ছাদকাৎ উল্লাহ মিয়াজীকে (৫৫) গ্রেফতারের পর আনন্দ মিছিল করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ১৫ বছর ধরে তার হাতে নির্যাতিত অসংখ্য মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় তারা জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলামসহ একাধিক খুনের দায়ে ছাদাকাত উল্লাহর ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেয়।

এর আগে চট্টগ্রাম নগরীর কর্নেল হাট এলাকার গোপন আস্তানা থেকে সীতাকুণ্ড মডেল থানার একটি টিম গ্রেফতার করে ছাদাকৎ উল্লাহ মিয়াজীকে। ৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকার পালিয়ে গেলে আত্মগোপনে চলে যান সীতাকুণ্ডে আওয়ামী বর্বরতার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড এই নেতা। বিনা ভোটে দীর্ঘ সময় চেয়ারম্যান থাকাকালীন স্থানীয় এলাকাবাসীকে মামলা হামলায় জড়িয়ে চরম ভোগান্তিতে ফেলেন তিনি। ভূমিদস্যুতা, দখল বাণিজ্য, বালু উত্তোলনসহ অপরাধমূলক নানা কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে ভূমির দালাল থেকে রাতারাতি কোটিপতি বনে যান। লোকাল বাস বাদ দিয়ে হাঁকান অর্ধকোটি টাকার গাড়ি।

অর্থ আর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বাড়বকুণ্ড এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন ছাদাকাৎ উল্লাহ। ভিন্ন মত দমনে একাধিক খুনের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ স্থানীয় নেতা আমিনুল ইসলাম আমিনকে হত্যার মাস্টারমাইন্ড বলা হয় তাকে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

২০১৩ সালে প্রথম নবজাতক সন্তানকে নিয়ে স্বস্ত্রীক ঢাকা থেকে ফিরছিলেন আমিনুল ইসলাম। পথে কুমিল্লায় যাত্রা বিরতিতে রেস্টুরেন্টের খাবার টেবিল থেকে আমিনকে উঠিয়ে নিয়ে যায় সাদা পোশাকের একদল লোক। দুদিন পর সীতাকুণ্ড পৌরসভার শেখপাড়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে বিলের মধ্যে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মুখের ভিতর ফোম গোঁজা ও পিছমোড়া করে হাত-পা বাধা অবস্থায় পড়েছিল আমিনুলের লাশ। সেদিন এ বিভৎস দৃশ্য দেখে অঝোরে কেঁদেছিল সীতাকুণ্ডবাসী। ইতিমধ্যে আমিন হত্যা, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র হত্যাসহ একাধিক হত্যা মামলায় আসামি করা হয় ছাদাকাৎ উল্লাহকে।

শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেফতারের পর সীতাকুণ্ড থানার সামনে গভীর রাত পর্যন্ত নির্জাতিত জনতা ভিড় করে। শনিবার সকাল ১০টায় ওসি মজিবুর রহমান জানান, ছাদাকাৎ উল্লাহকে থানায় আনা হয়নি তবে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আজ তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৩ সালে যখন সরকার বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে তখন জামায়েত নেতা আমিন হত্যার মাধ্যমে সীতাকুণ্ডে আন্দোলনকে নিস্তব্ধ করে দেয়া হয়। আর এ সবের মাস্টারমাইন্ড আওয়ামী লীগ নেতা ছাদাকাৎ উল্লাহ মিয়াজী। আমরা  আমিন হত্যার দায়ে অবিলম্বে ছাদাকাৎ উল্লাহর ফাঁসি দাবি করছি।

Tags :

সর্বশেষ