চট্টগ্রাম বুলেটিন

সিএসআইসি’র নতুন কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম সোসাইটি অব ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি (CSIC) এর ২০২৫ সেশনের ২৭ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। একইসাথে সংগঠনটির বার্ষিক সাধারণ সভাও সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত নগরের হোটেল দি পেনিন্সুয়ালায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ডা. আনিসুল আওয়াল। এছাড়া সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডা. মো. নুরুদ্দিন তারেক, প্রফেসর ডা. আবু তারেক ইকবাল, ডা. আব্দুল মুত্তালিব, প্রফেসর এম এ রউফ ও প্রফেসর শেখ মো. হাসান মামুন। এ কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ডা. এ ওয়াই এম নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সচিব হয়েছেন ডা. এস এম ইফতেখারুল ইসলাম ও ডা. জহির উদ্দিন মাহমুদ ইলিয়াস। এছাড়াও কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে থাকবেন, ডা. কাজী শামীম আল মামুন, বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক থাকবেন ডা. মো. খুরশেদ আলম, অফিস সম্পাদক: ডা. মো. সাইফ উদ্দিন (সোহাগ), সামাজিক কল্যাণ সম্পাদক: ডা. সালেহ উদ্দিন সিদ্দিকী উজ্জ্বল, প্রচার সম্পাদক: ডা. সাইফুর রহমান সোহেল, সংস্কৃতি সম্পাদক: ডা. ইকবাল মাহমুদ।

এই কমিটিতে নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডা. বিপ্লব ভট্টাচার্য, ডা. মাহফুজুর রহমান, ডা. মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন, ডা. সোহেল সিদ্দিকী, ডা. শফিউল আলম, ডা. সৈয়দ মিসকাতুন নুর, ডা. মো. আজিজুর হমান মজুমদার, ডা. জি এম সেলিম, ডা. আকরাম হোসেন ও ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক এবং এক্স-অফিসিও সদস্য হিসেবে থাকছেন ডা. আসিস দে।

কমিটির উপদেষ্টা পরিষদে থাকবেন, ডা. আনোয়ারুল হক চৌধুরী, ডা. এ কে বসাক, ডা. মনজুর মোর্শেদ, ডা. এস সি ধর, ডা. আকতার হোসেন, ডা. প্রবীর কুমার দাশ, ডা. আব্দুল জলিল, ডা. আব্দুর রাজ্জাক।

নতুন কমিটির সদস্যরা আগামী তিন বছর দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্যরা সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং দেশের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এর আগে সভায় সংগঠনের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় এবং কোষাধ্যক্ষ সংগঠনের অডিট রিপোর্ট উপস্থাপন করেন।

কমিটির বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. খুরশেদ আলম বলেন, হৃৎ রোগের রোগী ইতিমধ্যেই বাইরে যাওয়ার হার কমে গেছে। রক্তনালীতে রিং বসানো, বাইপাস চট্টগ্রামেই হচ্ছে। আমরা চাই হার্টের জটিল জন্মগত সমস্যা, ভাল্বের সমস্যা অর্থাৎ স্ট্রাকচারাল হার্ট ডিজিসের জন্যও যেন ভবিষ্যতে বাইরে যাওয়া না লাগে। সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি। চট্টগ্রাম একটি বৃহৎ শহর। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। আমরা চাই ঢাকার পরে এই শহরকে চিকিৎসা হাব হিসেবে গড়ে তুলতে।

সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. কাজী শামীম আল মামুন বলেন, আমরা কমিটির পক্ষ থেকে চেষ্টা করব চট্টগ্রামের ডাক্তাররা যেন রোগীদের উন্নতমানের চিকিৎসা দিতে পারে এবং এ বিষয়ে অনেক বেশি দক্ষ হয়ে ওঠে। এজন্য আমরা বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়ামসহ নানা ধরণের প্রোগ্রাম হাতে নিব, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। সিএসআইসি’র নতুন কমিটি ডাক্তার ও রোগীদের জন্য কাজ করে যাবে বলেও জানান তিনি।

কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. আনিসুল আওয়াল বলেন, সিএসআইসি ইন্টারভেনশন কার্ডিওলজিস্টদের একটি সংগঠন। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ডাক্তারদের ইন্টারভেনশনে আরও দক্ষ করে তোলা। চট্টগ্রামের সেবাটা যেন আরও মানসম্মত এবং আন্তর্জাতিক মানের হয় সেই লক্ষ্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য আমরা ডাক্তারদের আপডেটেড করা, ট্রেনিং করানোর মাধ্যমে আমাদের চট্টগ্রামের কাজকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। একইসাথে চট্টগ্রামের মানুষকে যেন কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশনের জন্য ঢাকায় বা দেশের বাইরে যেতে না হয় সেজন্য আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে আমরা চট্টগ্রামের বাইরে যাওয়ার কাজগুলো কমিয়ে ফেলেছি। বর্তমানে নগরে ৬-৭টি ক্যাথল্যাব সচল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন ৩০-৪০ জন রোগীর ডায়াগনস্টিক এনজিওগ্রাম হয় এবং কমপক্ষে ১০ জন রোগীর রিং লাগানো হয়। আমরা ট্রান্সপার জিরোতে নামিয়ে আনতে চাই। চট্টগ্রামকে মানসম্মত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

কমিটির সভাপতি ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন, আপনারা জানেন যে ঢাকার পর চট্টগ্রামেই বড় আকারে হৃৎ রোগের কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশন হয়। হার্টে রিং লাগানো, ফেসমেকার লাগানো, আইসিটি লাগানো। যে কাজগুলো মানুষ ভারতে গিয়ে করতো সেগুলো ঢাকায় হয়। কিন্তু বর্তমানে এই কাজগুলো চট্টগ্রামও হয়। কার্ডিয়াক ডাক্তারদের সংগঠন চট্টগ্রাম সোসাইটি অব ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি (সিএসআইসি)। ডাক্তারদের কাজগুলো বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে, নতুন নতুন নলেজ শেয়ার করতে কাজ করে থাকে। সেইসাথে রোগীদের সহজে হৃৎ রোগের পেতে আমরা কাজ করে থাকি। আমরা চট্টগ্রাম থেকে কার্ডিয়াক ইন্টারভেশন কাজ আরও এগিয়ে নিতে চাই।চট্টগ্রামে অনেক কার্ডিয়াক ডাক্তার আছেন আমরা তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে চাই। আমরা চট্টগ্রাম থেকে এমন কাজ করতে চাই মানুষ যেই আস্থা নিয়ে ভারতে, সিঙ্গাপুরে যায় সেই মানের কাজ করতে চাই এবং সেই আস্থা অর্জন করতে চাই।

 

Tags :

সর্বশেষ