রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় সাম্প্রতিক শ্রমিক বিক্ষোভ ও অস্থিরতার জেরে বন্ধ থাকা প্যাসিফিক গ্রুপের আটটি পোশাক কারখানা পুনরায় চালু হচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) থেকে এসব কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে।
প্যাসিফিক গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার সুহৃদ চৌধুরী বলেন, বিক্ষোভের সময় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়েছে এবং কাজের উপযোগী পরিবেশ ফিরেছে। তাই কারখানা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাতে স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে কারখানা পুনরায় চালুর বিষয়টি জানান।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে গত ১৬ অক্টোবর থেকে উৎপাদন কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এবং কর্মপরিবেশ অনুকূলে আসায় ২৩ অক্টোবর থেকে সব ইউনিটে উৎপাদন পুনরায় শুরু হবে।
এছাড়া, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের নির্ধারিত তারিখে নিজ নিজ বিভাগে উপস্থিত থেকে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুনরায় চালু হওয়া কারখানাগুলো হলো— প্যাসিফিক জিন্স-১, প্যাসিফিক জিন্স-২, প্যাসিফিক অ্যাটায়ারস, প্যাসিফিক অ্যাক্সেসরিজ, প্যাসিফিক ওয়ার্কওয়্যারস, ইউনিভার্সেল জিন্স, এইচটি ফ্যাশন এবং জিন্স ২০০০।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর প্যাসিফিক গ্রুপের কয়েকটি ইউনিটের শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করে এবং পরদিন ইপিজেড এলাকায় বিক্ষোভে নামেন। ১৬ অক্টোবর সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনার পর রাতে গ্রুপ কর্তৃপক্ষ ‘বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯’-এর ধারা ১২(১) অনুযায়ী সব ইউনিট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।
চট্টগ্রামের সিইপিজেডের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিমুখী পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্রুপের আটটি ইউনিটে বর্তমানে ৩৫ হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন।