চট্টগ্রাম বুলেটিন

আমরা আওয়ামী লীগের গুম-খুন আর নির্যাতনের বিচার চাইতে এসেছি

১৭ বছর ধরে আমাদেরকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা নির্যাতনের স্টিলরোলার চালিয়েছে। ডজন ডজন মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে, গুম করেছে, খুন করেছে, জবাই করে নৃশসংসভাবে হত্যা করেছে, বাড়িঘরে থাকতে দেয়নি। ছেলে-মেয়েদের ভালোমতোন বিয়ে দিতে পারিনি। পরিবারের সাথে বহুদিন ঈদ করতে পারিনি। হারিয়েছি দুই পা, চোখ, হাত। চিকিৎসা  আর মামলায় জীবন-যৌবন শেষ হয়েছে গত সতেরোটি বছরে। এরপরও আমরা একমুহুর্তের জন্য দল ছাড়িনি। জিয়া পরিবারকে ভালোবেসে, শহীদ জিয়ার আদর্শে  বিএনপির ক্ষুদ্র কর্মী হয়ে থেকেছি। আজ তারেক রহমানের কাছে সেই অত্যাচারের বিচার চাইতে এসেছি। খুনীদের শাস্তির দাবি নিয়ে এসেছি।

রোববার দুপুরে নগরীর পলোগ্রাউণ্ড মাঠে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় জুলাই যোদ্ধা, শহীদ ও গুম, খুনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং নির্যাতিত কর্মীরা চট্টগ্রাম বুলেটিনকে এসব কথা বলেন। এসময় তারা বলেন, আমাদের একটাই দাবি এই দেশটাতে যেন সেই পুরোনো কায়দা ফিরে না আসে। আমরা সেই অন্ধকার যুগ আর দেখতে চাই না। পাশাপাশি যারা আমাদেরকে নির্যাতন চালিয়েছে, আমাদের শরীরের অঙ্গগুলো কেটে নিয়েছে বিনা অপরাধে, তাদের বিচার চাই। তারা যেন পার পেয়ে না যায়।

এসময় কথা হয় পা হারানো সন্দ্বীপ পৌরসভার সাবেক কমিশনার মো. কাউচারের সাথে। কাউছার জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেই আমাদের উপর নির্যাতন শুরু করে। সেই নির্যাতনের অবসান হয় ২৪’র জুলাইয়ে। ২০১২ সালের ৮ এপ্রিল আমাকে সন্দ্বীপের যুবলীগ সন্ত্রাসী জাফর উল্লাহ টিটু সন্ত্রাসীদের নিয়ে মাটিতে ফেলে জবাই করে দেয়। আমি আল্লাহর রহমতে বেঁচে আসলেও এখন সম্পূর্ণ পঙ্গু। কারণ তারা আমার দুটি পা কেটে ফেলে। বর্তমানে একটি পা নেই, আরেকটি পা এখন কয়েক খণ্ডে সেলাই করা। স্ট্রেচার আমার একমাত্র সঙ্গী। এছাড়া আমার গলায় ছুরির দাগ রয়েছে। আমার খেতে ও কথা বলতে অনেক কষ্ট হয়। বহু বছর ধরে আমি কর্মে অক্ষম। যারা আমার উপর নির্যাতন চালিয়েছে তাদের বিচার চাই।

জুলাই শহীদ তানভীর সিদ্দিকীর পিতা বলেন, ২৪’র জুলাইয়ের ১৮ আগস্ট আমার ছেলে ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। আজ গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের কালারমারছড়া থেকে জনসভায় এসেছি। ফ্যাসিবাদের পতনের দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনও আমার মামলার কোন আসামি ধরা পড়েনি। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। তারেক রহমানের কাছে দাবি আমাকে ছেলে হত্যার বিচার করে দেবেন।

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আদিল মাহমুদ চৌধুরীকে ২০১৪ সালের ৮ অক্টোবর নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সন্ত্রাসীরা। রোববার ভোরে ভাইয়ের ছবি হাতে নিয়ে মিরসরাই থেকে তার দুই ভাই তারেক রহমানের জনসভায় আসেন হত্যকারীদের বিচার চাইতে।

আদিলের ভাই আদনান উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যুবলীগের সন্ত্রাসী শামীম আজাদ মুন্না ও ছাত্রলীগের কামরুল হাসান শিবলু ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে আমার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে। আমরা তাদের ফাঁসি চাই। বিএনপি চেয়ারম্যানকে বলব ক্ষমতায় গেলে যেন আমাদের মামলার বিচার বিনা খরচে হয়রানিমুক্তভাবে দ্রুত গতিতে যেন করা হয়। ১৭ বছরে আমরা মানসিকভাবে ও আর্থিকভাবে নি:স্ব হয়ে গেছি। আর কতো অপেক্ষা করতে হবে ভাই হত্যার বিচারের জন্য।

একইভাবে ২০১০ সালে গুমের শিকার বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম বাচার ভাই হামিদুল হক মান্নানও রোববার ভোরে পলোগ্রাউণ্ড মাঠে এসে তারেক রহমানের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন। ভাইকে গুমের বিচার চাইতে তিনি জনসভায় আসেন বলে জানান।

এছাড়াও সুদূর কক্সবাজার থেকে আসেন ছাত্রদল নেতা আবিদুর রহমানের পিতা লুৎফুর রহমান। তিনি জানান, ২০১১ সালে চমেক হাসপাতালের হোস্টেলে তার ছেলে ছাত্রদল নেতা আবিদুরকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে হত্যা করে। তার অপরাধ ছিল সে চমেক ছাত্রদলের কমিটিতে সদস্য ছিল। তিনি বলেন, খুনীরা চমেকসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা পেশায় আছেন। কেউ স্কলার নিয়ে বিদেশে আছেন। খুনীরা কখনও চিকিৎসক হতে পারে না। তারা এই পেশাকে কলঙ্কিত করছে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।

সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শীঘ্রই চট্টগ্রামের গুম, খুনের শিকার হওয়া ব্যক্তি ও জুলাই শহীদদের পরিবারের সাথে ঢাকায় মতবিনিময় করবেন।

Tags :

সর্বশেষ