বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলুর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি৷ একইসাথে তার এই পাল্টা ব্যাখ্যায় বাস্তব সত্য ওঠে এসেছে বলেও জানান তিনি৷
শনিবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি অ্যাডভোকেট মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলুকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর ও বিকৃত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে পরিচালিত এসব অপপ্রচারের জবাবে তিনি নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী। ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও ২০১১ সালে এলএলবি অনার্স সম্পন্ন করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। পরে সীতাকুণ্ড পৌর বিএনপিতে সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১ জুলাই ২০১৫ থেকে সর্বশেষ কমিটি পর্যন্ত তিনি আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি সীতাকুণ্ড পৌর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সক্রিয় সদস্য।
দলের আইনজীবী অঙ্গসংগঠনে তার অবদানও উল্লেখযোগ্য। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম চট্টগ্রাম শাখার নির্বাচনে তিনি প্রত্যক্ষ ভোটে কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০২০ সাল থেকে সর্বশেষ কমিটি পর্যন্ত সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ধারাবাহিকভাবে।
২০২১ সালে যখন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়, তখন পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ঠিক সেই কঠিন সময়েই অ্যাডভোকেট মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু বিএনপি প্যানেল থেকে নির্বাচন করে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বিজয়ী হন। তার এই জয় একদিকে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সম্মান রক্ষা করেছে, অন্যদিকে আইনজীবী সমাজে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা, ব্যক্তিগত যোগ্যতা এবং কঠোর পরিশ্রমের ফল সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে।
২০২৪ সালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির অভ্যন্তরীণ প্রত্যক্ষ ভোটে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হন তিনি৷ ওইসময় ৯৬ ভোট পান তিনি৷ যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান মাত্র ৫১ ভোট। এটি আইনজীবী সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা ও কাজের স্বীকৃতির প্রতিফলন।
আইনজীবী ফোরামের বাইরে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির লিগ্যাল এইড কমিটি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সম্মানিত সদস্য ও সীতাকুন্ড উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটির যুগ্ন আহবায়ক হিসেবে কাজ করছেন। নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দেওয়া তার নিয়মিত রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ।
সংগঠনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন তিনি—জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটি (চট্টগ্রাম বিভাগ)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা)। জিয়া মঞ্চের নেতা হিসেবে বিগত আন্দোলন, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দলীয় আদর্শ ধরে রাখতে এবং তরুণ নেতৃত্বকে সংগঠনে সম্পৃক্ত করতে তিনি নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, সামাজিক ও অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তার দায়িত্ব ছিল দৃশ্যমান। দিশারী যুব ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, দুরন্ত পথিক আদর্শ সঞ্চয় ও রমজান সমবায় সমিতির মতো সরকার নিবন্ধিত সংগঠনে দায়িত্ব পালন করার কারণে কিছু সরকারি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব বা অতিথি হিসেবে তাকে উপস্থিত থাকতে হয়েছে—যা সম্পূর্ণ সামাজিক ও পেশাগত কাজ, রাজনৈতিক নয়। একইভাবে লেবার ফেডারেশনের চট্টগ্রাম আইন উপদেষ্টা হিসেবে শ্রমজীবী মানুষের আইনি সহায়তায়ও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, পারিবারিক শত্রুতার জেরে এলাকার পাশ্ববর্তী একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। সেই প্ররোচনায় কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃত ছবি, মনগড়া গল্প ও তথ্যবিকৃত মন্তব্য প্রচার করছে।
অ্যাডভোকেট লাভলু পরিষ্কার জানিয়ে দেন—তিনি বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দর্শনেই অনুপ্রাণিত, এবং আমৃত্যু সেই আদর্শেই অবিচল থাকবেন। তার ভাষায়, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার পক্ষে কাজ করাই তার রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব, আর সেই অবস্থানেই তাকে টার্গেট করা হচ্ছে।
রাজনীতি, সমাজসেবা, আইনপেশা—সব ক্ষেত্রেই তার কাজ, ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতা সুস্পষ্ট। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার ওপর যত চাপই আসুক, নীতি আর আদর্শ থেকে সরব না। সত্যের পাশে থাকা আমার প্রতিশ্রুতি।”
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: