একটি মাত্র বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়েছে যৌথ বাহিনী। এতে অন্যান্য গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, এমন ঘটনা একদিকে যেমন নজিরবিহীন তেমনি অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে। দ্রুত গণমাধ্যম কর্মীদেরকে নির্ভীঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা না করলে ভবিষ্যতে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করেন সাংবাদিকরা। অনেকে বলছেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হওয়ায় এমনিতেই গণমাধ্যমের প্রবেশ সেখানে একপ্রকার নিষিদ্ধ। কিন্তু যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময়ও এলাকাটিতে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশে বাধা দিলে তা নিন্দনীয়।
সরেজমিনে সোমবার বারোটায় জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশ মুখে দেখা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীদের বাকবিতণ্ডা চলছে। তারা অভিযানের খবর জানাতে ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলেও পুলিশ সদস্যরা বারবার বাধা প্রদান করে৷ এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন টেলিভিশন ও জাতীয় পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকরা।
চট্টগ্রাম টেলিভিশন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক লতিফা আনসারী রূনা জানান, একটি মাত্র টেলিভিশন চ্যানেল অভিযানের সঙ্গে রয়েছে এবং লাইভ সম্প্রচার করছে। অথচ অন্য কোন গণমাধ্যম কর্মীকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। আমরা প্রশাসনের নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু প্রশাসন যখন কোন নিয়মে বৈষম্য সৃষ্টি করে তখন আমাদেরও প্রশ্ন জাগে এটি কেমন অভিযান। আমাদেরকে গণমাধ্যমের ঢাকা অফিসগুলো থেকে বারবার বলা হচ্ছে সরাসরি অভিযানের সম্প্রচার দেখানোর জন্য৷ যেখানে একটি টেলিভিশন চ্যানেল ভিতরে প্রবেশ করেছে সেখানে আমরা প্রবেশ করতে না পারা দুঃখজনক। তিনি আরো বলেন গণমাধ্যম কর্মীদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া উচিত। তাদের কাজে বাধা প্রদান করা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করারই চেষ্টার নামান্তর।
জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশ মুখে পুলিশের আবিদ নামে একজন কর্মকর্তাকে রূঢ় ভাষায় বলতে শোনা যায়, আপনাদেরকে বাধা প্রদান করার জন্যই আমাকে এখানে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আপনারা ভেতরে যেতে পারবেন না এটাই নিয়ম। আমাকে এসাইন করা হয়েছে গণমাধ্যমের প্রবেশ ঠেকাতে। এসময় একটি টিভি চ্যানেল কিভাবে ভেতর থেকে লাইভ সম্প্রচার করছে তা জানতে চাইলে তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে যান।