ফটিকছড়ি প্রতিনিধি:
২০১৯ সালে ঘুষের টাকাসহ দুদকের হাতে ধরা পড়েন তৎকালীন ফটিকছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আজিমেল কদর। কিন্তুু ছয় পর আবারও একই উপজেলায় ফিরেছেন তিনি।
বুধবার (২২ অক্টোবর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জারি হওয়া এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করেন৷ এরপর একইদিন বিকেলেই তিনি ফটিকছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পৌঁছেন৷ এদিন তিনি বেলা ৫টা পর্যন্ত অফিস করেন। এ খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে হলে শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেন।
সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মোঃ মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত প্রশাসন-১ শাখা কর্তৃক ২২ অক্টোবরের স্মারক নম্বর- ৩৮,০০,০০০০,০০১,১৮,০০৯,২৫.৯৩০ মূলে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়- যেহেতু, মোঃ আজিমেল কদর, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) (সাময়িক বরখাস্ত), ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক দায়ের করা (মামলা নম্বর ১৫, তারিখ: ২৮/০৩/২০১৯) অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। তার বিএসআর পার্ট-১ এর ৭৩ নং বিধির নোট (২) অনুযায়ী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৯ সালে ১২ মে’র ৩৮,০০,০০০০,০০১.০৪.০১৮.১৭-২৪৬ নম্বর প্রজ্ঞাপনমূলে তাকে ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। যেহেতু, এই দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দায়েরকৃত বিভাগীয় মামলা থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২২ এর এক স্মারকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। যেহেতু বাংলাদেশের মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল আপীল নম্বর- ৬৩৪৫/২০২৩ মামলায় গত বছরের ৫ জুন প্রদত্ত রায়ে তাকে ওই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে; যেহেতু, মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত ক্রিমিনাল আপীল নম্বর- ৬৩৪৫/২০২৩ মামলার গত বছরের ৫ জুনের রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক মহামান্য আপীল বিভাগে আপীল দায়ের না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে মর্মে দুর্নীতি দমন কমিশনের চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বরের এক স্মারকে জানানো হয় যে যেহেতু, তার সাময়িক বরখাস্তকরণ আদেশ প্রত্যাহার করার ক্ষেত্রে আইনগত কোন বাধা নেই; সেহেতু, মোঃ আজিমেল কদর, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) (সাময়িক বরখাস্ত), ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম-এর সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হলো। তিনি সাময়িক বরখাস্তকালীন সকল পাওনাদী বিধি মোতাবেক প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আজিমেল কদর ঘুষসহ হাতে-নাতে দুদকের হাতে আটক হন৷ এরপর থেকে মামলা জটিলতায় তার পদটি শূন্য ছিল এবং কাউকে পদায়িত করা যায়নি। এতোদিন সহকারী শিক্ষা অফিসারগণ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।