চট্টগ্রাম যেন প্রস্তুত এক বিশেষ দিনের জন্য। আগামী ১৪ মে এই শহরে পা রাখতে চলেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরী থেকে শুরু করে হাটহাজারী পর্যন্ত চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নিরাপত্তা, যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অনুষ্ঠানস্থলের সাজ—সবকিছুতেই রয়েছে এক অন্যরকম আমেজ।
নিরাপত্তা বলয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও জেলা পুলিশ ইতোমধ্যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে। প্রধান উপদেষ্টার সফর উপলক্ষে মোতায়েন করা হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। থাকছে সোয়াট টিম, ডগ স্কোয়াড, সাদা পোশাকের গোয়েন্দা বাহিনী, র্যাব, এনএসআই, ডিজিএফআই, এসএসএফসহ একাধিক সংস্থা। শহরের প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। কোথাও বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন।
সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার মাহমুদা বেগম জানান, “নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু কঠোরই নয়, তা হবে বহুস্তরবিশিষ্ট।”
ব্যস্ত দিন পার করবেন ড. ইউনূস
সফরের দিন সকালে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-৫ টার্মিনালে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। এরপর যাবেন সার্কিট হাউসে, যেখানে কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন কালুরঘাট সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন। একই স্থানে চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনকে জমির দলিল হস্তান্তর করবেন তিনি।
দুপুরের পর ড. ইউনূস যাবেন হাটহাজারীর নিজ গ্রামে। সেখানে দাদা-দাদির কবর জেয়ারত ও স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
সমাবর্তনের রঙে রঙিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে সমাবর্তনের সাজ। এবারের ৫ম সমাবর্তনে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হবে। থাকবেন ৪২ জন পিএইচডি ও ৩৩ জন এম.ফিল ডিগ্রিপ্রাপ্ত। বিশাল এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন ড. ইউনূস, যিনি পাবেন ডি-লিট সম্মানসূচক ডিগ্রি।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হচ্ছে মনোমুগ্ধকর প্যান্ডেল, বসানো হচ্ছে এলইডি স্ক্রিন, যাতে সবাই অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে এসএসএফ ছাড়াও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, “এই অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিতে আমরা প্রস্তুত।”
যাতায়াত ব্যবস্থাও ঢেলে সাজানো
গ্র্যাজুয়েটদের যাতায়াতের জন্য শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বাস ও ট্রেন সার্ভিস চালু থাকবে। ব্যক্তিগত গাড়ির প্রবেশে থাকবে নিষেধাজ্ঞা, তবে পূর্বনির্ধারিত পয়েন্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত থাকবে বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা।