চট্টগ্রামে মধ্যরাতে বহদ্দারহাট এলাকায় হঠাৎ সাত থেকে আটটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন লেগেছে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে এ ঘটনায় কোন হতাহত নেই। হঠাৎ বৈদ্যুতিক খুঁটিতে করে আগুন লাগায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, এ ঘটনা তদন্ত করা উচিত। গতকাল মঙ্গলবার ইফতারের সময় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ও রাতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন বিষয়টি রহস্যজনক। ঈদের আগে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে তৎপর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এমনটাও আশঙ্কা করছেন অনেকে।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছেন একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।
ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে, একাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন লেগেছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পরপর কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন জ্বলছে। সেখান থেকে আগুনের ফুলকি ঝরে ঝরে পড়ছে। এসময় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী চিৎকার করতে থাকেন৷ হঠাৎ করে পরপর কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন লাগায় তারা বিস্ময় করেন।
মো. মোহামিনুল ইসলাম কানন নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘বহদ্দারহাট থেকে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে আগুনের ফুলকি রাস্তায় ঝটে পড়ছে। আমি খুব কাছাকাছি ছিলাম, দৌড় দিয়ে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এসময় একাধিক খুঁটিতে হঠাৎ আগুন দেখা গেছে। স্থানীয়রা এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। পরে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘বহদ্দারহাট থেকে শুলকবহর যাওয়ার পথে একাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ বিভাগকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য বলা হয়। ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে কোনো হতাহত হয়নি।
এর আগে ২৫ মার্চ মঙ্গলবার ইফতারের (মাগরিব) আজানের সময় ৪০-৫০ জন নিয়ে নগরের চট্টেশ্বরী মোড় থেকে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ। সেখানে তারা “শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে” ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। তবে তারা ৪০ সেকেন্ডের মধ্যেই স্থান ত্যাগ করে।