চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাংলাদেশ চা বোর্ডের সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা মডার্ন ষ্টীল মিলস ও আরএসআরএম কারখানা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের যৌথ অভিযানে সরকারি ৬৫ শতক জমি উদ্ধার করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হুসাইন মোহাম্মদ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, চা বোর্ডের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মদহুল কবীর চৌধুরী, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদবিজ্ঞান) সেলিনা আক্তার লিপা
তিনি জানান, ২০০৮ সালে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামীর তারাগেটে অবস্থিত বাংলাদেশ চা বোর্ডের পাশে আরএসআরএম ও মর্ডাণ স্টিল নামে পৃথক দুটি কারখানা ৬৫ শতক সরকারি জমি ভাড়া নেয়। ভাড়ার চুক্তি অনুসারে তারা সরকারি নির্দেশ অনুসারে জমি ছেড়ে দেওয়ার কথা। ২০১৮ সালে সরকার ওই জমিতে চা বোর্ডের আবাসিক ভবন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২২ সালে তাদের ভাড়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর সরকারিভাবে কয়েক দফায় তাদেরকে জমি খালি করার নির্দেশ দিলেও তারা জমি খালি না করায় অভিযান পরিচালনা করে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে সরকারি ৬৫ শতক জমি উদ্ধার হয়৷
বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রতনপুর স্টীল মিলস জমিটি ভাড়া নেয় ২০০৮ সালে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভাড়া চুক্তির মেয়াদ সমাপ্ত হলেও মডার্ন ষ্টীল মিলস লিমিটেড ও রতনপুর স্টীল মিলস লিমিটেড (আরএসআরএম) দখল ধরে রাখে৷ শুধু তাই নয় তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে ৬৫ শতক জায়গা বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে ভোগ করতে থাকে৷ এছাড়াও বাংলাদেশ চা বোর্ডের ভাড়া ২ কোটি ২৪ লাখ টাকাও পরিশোধ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। বিগত প্রায় ৪ বছর চা বোর্ড কর্মকর্তারা জায়গাটি ছেড়ে দেওয়া ও ভাড়া পরিশোধের জন্য বারবার পত্র দিলেও তারা উল্টো বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন হুমকি ও ব্যক্তিগতভাবে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আসছে৷ হাইকোর্ট গত বছরের ১ জুন মেসার্স মডার্ন স্টীল মিলস লিমিটেডকে ১ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ চা বোর্ডের সকল পাওনা পরিশোধের আদেশ দেন। কিন্তুু মর্ডান স্টিল ও আরএসআরএম তা উপেক্ষা করে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ঋণখেলাপী আরএসআরএম এর বিরুদ্ধে।