জুন মাসের ঘটনাকে অক্টোবরের হিসেবে পোস্ট করে নারীকে মারধর করা হয়েছে বলে অপপ্রচার করার অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এরশাদুল হক বাদশা।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে তিনটায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের
(সিএমইউজে) হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলেন যুবদল নেতা এরশাদুল হক বাদশা। এসময় তিনি আরও বলেন, আমি চলতি বছরের ২২ এপ্রিল জামানা খাতুন গং থেকে আমমোক্তারনামা মূলে একটি জমি ক্রয় করি। জায়গাটি আমার দখলেই ছিল। জায়গাটির পাশ্ববর্তী মালিক মকসুদ আহমদ চৌধুরী। তার কন্যা সাদিয়া মকসুদ চৌধুরী ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের নেত্রী। স্বৈরাচারের আমলে সে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। সে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমার আমার জায়গাটি অবৈধভাবে দখল করে নেয়। শুধু তাই নয় সে জায়গাটি দখলে নেওয়ার সময় ফেসবুকে লাইভ করে আমার নামে মিথ্যা, বানোয়াট অপপ্রচার চালিয়ে তথ্য সন্ত্রাস করতে থাকে। পরবর্তীতে আমি এর প্রতিকার চেয়ে আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করলে আদালত জায়গার উপর শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু আমার বিরেুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার অব্যাহত থাকায় আমি আদালতের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করি।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নেত্রী সাদিয়া মকসুদ চৌধুরী আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা পরে গত ৭ জুন আমার জায়গাটি দখল করতে যায়। এসময় আমি সেখানে লোকজনকে নিয়ে উপস্থিত হয়ে তাকে আইনের ভঙ্গের কারণ জানতে চাই। এসময় স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দিলে পুলিশ কাজ বন্ধ করে দিয়ে উভয়পক্ষকে চলে যেতে বলে। এসময় ও্ট নারীর সাথে আমার কথাকাটাকাটি হয়। আমি নিজেকে নিব্রত রাখি। কিন্তু তারা পরিকল্পিতভাবে ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে এডিট করে ডাবিং করে ভয়েজ যুক্ত করে নিউজ অব চকবাজার নামে ভুয়া আইডি থেকে পোষ্ট করে। এতে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে বলা হয়েছে আমি নাকি ওই নারীকে মারধর করেছি। শুধু তাই নয় ঘটনাটি জুনের হলেও সেটিকে অক্টোবরের বলে পোস্ট করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় যুবদল ও বিএনপি নেতৃবৃন্দকে পাঠানো হচ্ছে।
যুবদলের এই নেতার আরও বলেন, মকসুদ আহমদ চৌধুরী আমার বিরুদ্ধে সিআর মামলা দায়ের করলেও মামলাটি চকবাজার থানায় তদন্ত হয়েছে। তদন্তে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের সত্যতা পুলিশ পায়নি।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নুর মোস্তফা টিনু ছাত্র জনতার উপর হামলা চালিয়েছে। অস্ত্র নিয়ে তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে হত্যা করেছে। তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু হত্যা মামলা হয়েছে। সেই টিনু্র সন্ত্রাসীরাই আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে ভুয়া পেইজ খুলে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। তারা চাইছে আমাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হোক। আর এই আওয়ামী নেত্রী সেই অপপ্রচারের হাতিয়ার। আমি আগামীতেও মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। যারা আমার প্রতিপক্ষ তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে দলের হাইকমান্ডের কাছে পাঠিয়ে বেনিফিশারি হতে চাই। তারা ভাবছে আমাকে যদি বহিস্কার করা হয় তারা হয়তো লাভবান হবেন। এজন্য ষড়যন্ত্র করে কেউ কেউ এসব করে থাকতে পারেন বলে আমি মনে করছি।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ঘটনা যে জুনের সেটি সম্পর্কে আমার কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে রেখেছি এবং অক্টোবরে তার সাথে আমার দেখাও হয়নি, আমি সেখানেও যায়নি।
যুবদল নেতা এরশাদুল হক বাদশা বলেন, আমি কলঙ্ক মাথায় নিয়ে বাঁচতে পারব না। আমার কোন পদ-পদবী চাইনা। কিন্তু শহীদ জিয়ার পরিবারকে ভালোবাসি। বিএনপিকে ভালোবাসি। একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে থাকতে চাই। আমি বিগত সরকারের আমলে ৫৮ টি মামলার আসামি হয়েছি। বারবার জেলে গিয়েছি। আমার পরিবারের সদস্যরা কারাবরণ করেছে। এতো অত্যাচারের পরও শহীদ জিয়ার আদর্শে থেকে চুল পরিমাণও বিচ্যুত হইনি। যুবদলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলকে সুসংগঠিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছি। আমি আমার সেই অর্জনকে ম্লান করতে চাইনা। এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই।