বাড়ির সবাই গেছেন কক্সবাজারে বেড়াতে। বাড়ির মালিক একসময় পেট্রোলিয়ামে বড় পদে ছিলেন। তাছাড়া বাড়ির মালিক একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। এসব জেনেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সেই বাড়িতে হানা দেয় ডাকাত দল। তবে সাধারণ ডাকাতের বেশে নয়। তারা সবাই একটি রাস্ট্রিয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয়ে প্রবেশ করেন সেই বাড়িতে। এরপর দারোয়ানকে জিম্মি করে মূল্যবান জিসিপত্র লুট করার সময় ধরা পড়েন স্থানীয়দের হাতে। এ ঘটনায় মোট ১২ জন গ্রেপ্তার হলেও আরও কয়েকজন পালিয়ে যান। ডাকাতি হওয়া এলাকাটি অভিজাত নগরের খুলশী। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেকে এবং বিদেশী নাগরিকরা বসবাস করেন।
পুলিশ বলছে তারা পেশাদার কোন ডাকাতদল নয়। বেকার একটি গ্রুপ খেলনার পিস্তল নিয়ে ডাকাতি করতে যায়। এ ধরণের কর্মকাণ্ড যারা করছে তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিউশনার মো. রইছ উদ্দিন এসব তথ্য জানান।
এর আগে শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরের খুলশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তাররা হলেন, ওয়াজেদ রাকিব (৩৬), মোঃ হোসাইন (৪২), মোঃ রুবেল হোসেন (২৫), মহি উদ্দিন (৪৫), আব্দুস সবুর(৩৭), ইয়াকুব (৩৫), মোজাহের আলম(৫৫), মোঃ রোমেল (৪১), ওসমান (২৪), আব্দুল মান্নান (৩৫) ও শওকত আকবর ইমন (২৮)। তাদেরকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় খেলনার পিস্তল, চাইনিজ কুড়াল, দড়ি, গামছা, প্লাস্টিকের বস্তা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ও গোয়েন্দা সংস্থার ৯টি ভুয়া আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে একটি মাইক্রোবাস নিয়ে ডাকাত দল খুলশী ৩ নম্বর সড়কের সানমার রয়েল রিচ ভবনের সামনে দাাঁড়ায়। এসময় তারা ভবনের নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে নিজেদেরকে গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এর সদস্য পরিচয় দেয়। এরপর তারা নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ও হাত-পা বেঁধে আটকে রাখে। তাদের আরেকটি টীম ৮ম তলায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আনসারীর ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়ে। এসময় বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে লুটপাট শুরু করে। ওই সময় গিয়াস উদ্দিনসহ তার পরিবারের সদস্যরা বাসায় ছিলেন না। তারা সবাই কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
এমন সময় ওই ভবনের অন্য বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দিলে খুলশী থানা পুলিশ এসে ১২ জনকে আটক করে। এসময় ৩ জন পালিয়ে যায়।
উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রইছ উদ্দিন শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, তারা কোন পেশাদার ডাকাত দল নয়। আমরা তাদের পিসিপিআর দেখেছি। তারা কেউ প্রবাস ফেরত, কেউ সাবেক ব্যাংকার, কেউ দোকানের কর্মচারী। তারা কেউ কক্সবাজার, সীতাকুণ্ড, মিরসরাইসহ আশেপাশের এলাকাগুলো থেকে এসেছেন। মূলত ওয়াজিদ রাকিব নামে একজন বালুর সরবরাহকারী সবাইকে সংঘটিত করে এই ডাকাতি করে। তারা জানতো বাড়ির মালিকের অনেক টাকা পয়সা আছে।
তিনি আরও বলেন, বাড়ির মালিকের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আরও যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয়ে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে এরকম ডাকাতি বিস্ময়ের। আমরা গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছি। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছি।