চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন৷ এর মধ্যে প্রায় সব প্রার্থী নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, এফডিআর, স্থাবর, অস্থাবর সম্পদ, বাড়ি, গাড়িতে পরিপূর্ণ। কারো কারো নগদ অর্থের পরিমাণও ১৫-২০ কোটি টাকা, বার্ষিক আয় অর্ধ কোটিরও বেশি। কারো সম্পদের পরিমাণ ৮০-১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। কোন কোন আসনে প্রার্থীর স্ত্রী প্রার্থীর চেয়েও ধনী। তবে এই দুই প্রার্থীর নগদ অর্থের পরিমাণ যেমন নগন্য, তেমনি ব্যক্তিগত চলাফেরার জন্য কোন গাড়ি, থাকার জন্য নিজস্ব বাড়িও নেই। এরা হলেন, চট্টগ্রাম- ৮ আসনে এনসিপি’র প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জোবাইরুল হাসান আরিফ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর ও দলটির উত্তর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দীক চৌধুরী।
তাদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিজস্ব কোন ফ্ল্যাট, বাড়ি কিংবা যাতায়াতের কোন বাহন নেই৷ এমনকি তাদের দোকান ভাড়া, বাড়ি ভাড়া, কৃষি-অকৃষি জমিও নেই, এসব খাত থেকে কোন আয়ও নেই তাদের। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের এনসিপি’র প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ আনোয়ার ছিদ্দীক চৌধুরীর চেয়ে আরও পিছিয়ে। তার মাসিক আয় মাত্র ৩৩ হাজার টাকা যা বছরে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তিনি চট্টগ্রামের একমাত্র পেশায় সাংবাদিক সংসদ সদস্য প্রার্থী।
জোবাইরুল হাসান আরিফের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা যায়, তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ মাত্র ২৭ হাজার টাকা। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো টাকা জমা নেই এবং তাঁর কোনো স্বর্ণালঙ্কার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী কিংবা আসবাবপত্রও নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে স্থাবর সম্পদের তালিকায় আরিফের নামে কোনো কৃষি জমি, অকৃষি জমি, দালান, আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন কিংবা বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট নেই। তার ওপর নির্ভরশীলদের নামেও কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। মোঃ জোবাইরুল হাসান আরিফের হলফনামা অনুযায়ী, তার নিজের বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের নামে কোনো প্রকার ঋণ বা দায় নেই। কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি একক বা যৌথভাবে কোনো ঋণ গ্রহণ করেননি। এছাড়া সরকারি কোনো পাওনাও তাঁর কাছে বকেয়া নেই। তার বিরুদ্ধে কোন মামলাও নেই৷
এদিকে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-পাহাড়তলী-আকবরশাহ আংশিক) জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দীক চৌধুরীর আয় বিবরণী দেখা যায়, ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৫ হাজার ৩৩৪ টাকা। এছাড়াও শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র থেকে আয় ৬১ হাজার ৫৭৭ টাকা। তবে কৃষি, বাড়ি, এপার্টমেন্ট থেকে কোন আয় নেই তার।
অস্থাবর সম্পদে তার নগদ ৯০ হাজার টাকা ও ৫ লাখ ২০ হাজার টাকার এফডিআর, বিয়ের সময় উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ১০ ভরি সোনাসহ ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩২২ টাকার সম্পদ রয়েছে। আর তার কোন স্থাবর সম্পদ নেই৷ নেই পরিবহনের গাড়িও। সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে দেখানো তার সম্পদের পরিমাণ ৩৮ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে ২৯ টি মামলা রয়েছে।