চট্টগ্রাম বুলেটিন

মাথায় হেলমেট ও ছাতা দিয়ে চিন্ময়কে তোলা হলো আদালতে, বিচার শুরু

ইসকনের বহিস্কৃত নেতা চিন্ময়কৃষ্ণ দাশকে দীর্ঘদিন পর কঠোর নিরাপত্তা মধ্য দিয়ে আদালতে তোলা হয়েছে। সোমবার দুপুর এগারোটায় তাকে চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হয়। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়। এসময় তাকে মাথায় হেলমেট ও ছাতা দিয়ে ঢেকে রাখেন পুলিশ সদস্যরা।

এর আগে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মহল মার্কেট ও সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংক বা রঙ্গম কনভেনশন হলের সামনে সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়। এসময় কাউকেই আদালতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আইনজীবী ও সাংবাদিকদেরও তল্লাশী চৌকি পার হয়ে পরিচয় দিয়ে যেতে হয়েছে। আদালতে ব্যক্তিগত আইনী কাজে আসা ব্যক্তিরাও ফেরত গেছেন সোমবার। এদিন অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

রিমন আল ফাহাদ নামে একজন বলেন, বৃদ্ধ ও অসুস্থ বাবাকে নিয়ে আদালতে এসেছি পারিবারিক মামলার কাজে। কিন্তু কোর্টে  যেতে পারিনি। চিন্ময়ের জন্য কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি আদালত এলাকায়।

সূত্র জানায়, সোমবার বহুল আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার চার্জ গঠন করা হয়। এদিন চিন্ময়সহ ২৩ জন আসামিকে হাজির করা হয় আদালতে। এ মামলায় মোট আসামি ৩৯ জন। এর মধ্যে চিন্ময়ের পক্ষে একজন ও বাকি পলাতক ১৬ জন আসামির পক্ষে একজন আইনজীবী ছিলেন শুনানীতে। এছাড়াও ২২ জন আসামির পক্ষে আগামী ধার্য  তারিখে লিগ্যাল এইড থেকে আইনজীবী নিয়োগ করা হবে। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ইসকন সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন আইনজীবী আলিফ। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর চিন্ময়ক ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পরেরদিন ২৬ নভেম্বর আদালতে তোলা হয়। সেদিন তার জামিন না মঞ্জুর করা হলে ইসকন সমর্থকরা  তাকে বহনকারী প্রিজনভ্যান আটকে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ইসকন-চিন্ময় সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষ  হয় আদালত এলাকায়। এরপর মসজিদ ও গাড়ি-দোকানপাট ভাঙচুর করে চিন্ময়ের লোকজন। এতে ক্ষিপ্ত মুসল্লীতের সাথে সংঘর্ষ  গড়ায়। ওইদিন সন্ত্রাসীদের হাতে কোতোয়ালির রঙ্গম কনভেনশন হলের গলিতে আইনজীবী (রাস্ট্রিয় প্রসিকিউটর) সাইফুল ইসলাম আলিফ নির্মমভাবে খুন হন। আলিফ হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ওরফে চন্দন দাশ। এর আগে তাকে বাংলাদেশের পতাকার উপরে গেরুয়া রঙের পতাকা উড়ানোর অপরাধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে এক বিএনপি নেতার করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবারের শুনানীতে আদালত আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ধার্য তারিখ ঠিক করেছেন এই মামলায়।

বাদী পক্ষের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোঃ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন আদালত চত্ত্বরে চিন্ময়দাশকে বহনকরা প্রিজন ভ্যানটি তার অনুসারিরা মব তৈরী করে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রনে রাখে। প্রিজন ভ্যান থেকেই পুলিশের কাছ থেকে করে নেয়া হ্যান্ড মাইকে বক্তব্য রাখেন চিন্ময় এবং সমর্থকদের উত্তেজিত করে তোলেন। এরপরই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলিফের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে।

এই মামলার ১৬ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। চার্জশিটে আসামিদের মধ্যে রয়েছেন-চন্দন দাশ মেথর, রিপন দাশ, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাশ, আমান দাশ, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাশ, ওমকার দাশ, বিশাল, লালা দাশ, সামীর, সোহেল দাশ, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবী চরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাশ, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস ও দ্বীপ দাস।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর চিন্ময় সনাতনী ব্যানারে সারাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমাবেশ করে। তার অভিযোগ সারাদেশে সনাতনীদের নির্যাতন-নিপীড়ন করা হচ্ছে। কিন্তু এই অভিযোগের সত্যতা মেলেনি বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে। সনাতনী নামে চালানো তার এসব আন্দোলনে পতিত আওয়ামী লীগের ইন্ধন আছে বলেও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে।

Tags :

সর্বশেষ