রাউজান প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নে মগদাই বাজারের নোয়াপাড়া-কাগতিয়া সড়কে ব্রিজ বানাতে গিয়ে প্রবাসীর বাড়িতে বড় ধরণের ফাটল সৃষ্টি করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় বারবার ওই ঠিকাদারকে জানালেও ক্ষতিপূরণ দেবেন বলে আশ্বস্ত করে লাফাত্তা হয়ে পড়েছেন অভিযুক্ত ঠিকাদার। এ অবস্থায় প্রবাসীর নির্মিত বসতবাড়ি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
অভিযোগ, ঠিকাদারের গাফিলতি ও লোভের থাবায় হালদা নদীর শাখা খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ করতে গিয়ে বাড়িতে ফাটল সৃষ্টি করেছেন ঠিকাদার। কিন্তু বিষয়টি বারবার জানালেও ক্ষতিপূরণ দেবেন বলে আশ্বস্ত করে কোনরুপ মিমাংসা না করেই লাফাত্তা হয়ে যান ওই ঠিকাদার। এ অবস্থায় কোন প্রতিকার না পেয়ে বাড়িটি ভেঙে ফেলতে হবে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী মো. মোক্তার হোসাইন।
জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে নোয়াপাড়া-কাগতিয়া-রাউজান সড়কের হালদা নদীর শাখা খারের উপর ব্রিজ নির্মাণে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকায় দরপত্র পায় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি অনভিজ্ঞ ও লোভে পড়ে খরচ বাঁচাতে গিয়ে পাশ্ববর্তী প্রবাসী মোক্তার হোসাইনের বাড়িতে কয়েক মাসের মধ্যেই ফাটল ধরে। নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও কোন ক্ষতিপূরণ না দিয়েই তিনি লাফাত্তা হয়ে যান। কিন্তু এখনও তার প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে গত শনিবার ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনের অংশ দুটি থাকার ঘরে ফাটল ধরেছে। যেই খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানে কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে বাড়ির ভেতরে ও বাইর ফাটল ধরেছে। যেকোন মুহুর্তে বাড়ির সামনের অংশ ভেঙে পড়তে পারে। এতে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে পুরো বাড়িটি।
প্রবাসী মোক্তার হোসাইন জানান, ব্রিজ নির্মাণের আগে চারপাশে গাছ ফাইলিং করার কথা থাকলেও তা তিনি করেননি। বারবার ঠিকাদারকে জানালেও তিনি কোন সুরাহা করেননি। এতে তিনি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অথচ পুরো এলাকার মানুষ জানেন, যে ব্রিজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাড়ির ফাটলের জন্য দায়ী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে ঠিকাদারের মুঠোফোন নম্বর বা তার অবস্থান জানতে চাইলে শ্রমিকরা সহযোগিতা করেননি। তারা সাফ জানিয়ে দেন তাদের ঠিকাদার সম্পর্কে তথ্য দেওয়া যাবে না। শুধু তাই নয় একটি ব্রিজ করার পরও পাশের বাড়ির কোন সুবিধা দেখেননি ওই স্বার্থপর ঠিকাদার।
একজনন অভিজ্ঞ টিকাদার জানান, যেকোন ব্রিজ করার আগে আশেপাশের বাসিন্দাদের সুবিধা যেমন দেখতে হয় তেমনি কোন বাড়ি যেন ক্সতিগ্রস্ত না হয় সেদিক খেয়াল রেখে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। ওই ঠিকাদার লোভের কারণে টাকা বাঁচাতে আরেকজনের ক্ষতি করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপদ অফিসে যোগাযোগ করলেও তারা কোন তথ্য দিতে পারেননি।