চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের তৈরি করা ৩২৮ জন দুস্কৃতিকারীর তালিকা প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের নেতারা। তারা বলছেন, এই তালিকা প্রকাশ সিএমপির দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। তারা এই তালিকা প্রকাশ করে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে। একইসাথে তারা নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অপসরাণ দাবি করেছেন।
সোমবার নগরীর বিপ্লব উদ্যানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির চট্টগ্রাম মহানগরীর নেতারা এসব দাবি জানান। এসময় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ এরফানুল হক।
এতে বলা হয়, সিএমপি প্রদত্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩২৮ জন সন্ত্রাসীকে সিএমপি এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং তাদেরকে চট্টগ্রাম ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে ২৪’ এর গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যাকারী অনেক আসামী এবং চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম আছে। আমরা এই বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা মনে করি, এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কোনো দায়িত্বশীল বিবৃতি নয়, বরং এই এই বিবৃতির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে।
এসময় এনসিপি নেতারা প্রশ্ন তুলেন, সিএমপির কাছে সন্ত্রাসীদের নাম, পরিচয় ও অবস্থান পূর্বে থেকে জানা থাকলে তারা গ্রেপ্তার হচ্ছে না কেন? আইনের শাসন মানে সন্ত্রাসীদের এলাকা বদলানোর সুযোগ দেওয়া নয়। সন্ত্রাসী যেখানেই থাকুক, তাকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা আইননশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ। এসময় তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রার্থী, ভোটার,এবং চট্টগ্রামবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুশিয়ারি দেন।
এনসিপি নেতারা বলেন, আসন্ন নির্বাচনেকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে ডা. শাহাদাতের বহাল থাকা নিয়ে জনমনে অস্থিরতা এবং ভোটারদের মধ্যে একধরনের উদ্বেগ রয়েছে। এই পদে অধিষ্ঠিত থেকেও তিনি বিএনপি প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। বিএনপি নেতা চসিক মেয়র বহাল থাকলে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই তাকে পদ্যাগ করতে হবে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ন সমন্বয়কারি আরিফ মঈনুদ্দিন , জুবায়ের হোসেন, নিজাম উদ্দিন , জসিম উদ্দিন ওপেল, এনসিপি,মহানগর সদস্য মোহাম্মদ সোহরাব চৌধুরী প্রমুখ। উল্লেখ্য এর আগে গত শনিবার ৩৩০ জনকে দুস্কৃতিকারী পরিচয় দিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করে সিএমপি। পরে সেখানে একজন মৃত ব্যক্তির নাম ও একজন বিএনপি নেতার নাম যুক্ত হওয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে সিএমপি তালিকাটি সংশোধন করে ৩২৮ জনকে চূড়ান্ত করে।