আদালতে মামলা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কেএসআরএম এর এক নৈশপ্রহরীর ইউসিবি ব্যাংকের স্যালারি একাউন্টের একটি চেক নিয়ে তোলপাড় শুরু চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে পক্ষে বিপক্ষে অভিযোগ ছোড়াছুড়ি চলছে৷ একপক্ষের দাবি চেক হারিয়ে যাওয়ার পর আব্দুল হান্নান নামে এক ব্যক্তি ৫০ লাখ টাকা দাবি করছেন৷ অপরপক্ষের দাবি ব্যবসায়িক কারণে ৫০ লাখ টাকা হাওলাত নিয়ে এখন দিতে না পারায় অস্বীকার করছেন কেএসআরএম এর নৈশপ্রহরী নুরুল আবছার।
সম্প্রতি সীতাকুণ্ড থানায় এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। আজ শনিবারও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ থানায় হাজির হয় একটি পক্ষ৷ এ ঘটনায় আদালতে মামলাও করেছেন নুরুল আবছার। তবে শুধু লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন আব্দুল হান্নান৷
অপরদিকে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই পক্ষই মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করছে৷ তাছাড়া নুরুল আবছারের বিভিন্ন তদবিরে তিনি ইতিমধ্যে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছেন৷ এই পর্যন্ত অন্তত ২০ জনকে দিয়ে ফোন করানো হয়েছে তাকে৷ এতে তিনি রীতিমতো বিব্রত৷ তিনি আরও বলেন, একপক্ষ বলছে চেক হারিয়ে গেছে৷ অপরপক্ষ তার কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করছে চেকে লিখে৷ এটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা যে চেক রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়ে কেউ গরীব লোকের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করবে।
এছাড়াও নোটিশ দাতা আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন তিনি ৫০ লাখ টাকা পাবেন৷ নুরুল আবছার অত্যন্ত গরীব এবং পেশায় নৈশপ্রহরী। তার বেতনই বা কতো৷ তার কাছে এতো টাকা নেই, থাকারও কথা নয়৷ আব্দুল হান্নান মূলত মিথ্যা বলেছেন৷ আমি বিষয়টি তদন্ত করছি৷ সঠিক তথ্য বের করে সমাধান করা হবে৷
এদিকে জানা যায়, গত ১৬ জুন একটি সাধারণ ডায়েরী করেন নুরুল আবছার। এতে তিনি গত ৯ জুন ভাটিয়ারী নেভির রোড়ে হেঁটে যাওয়ার পথে তার ইউসিবি ব্যাংকের একটি চেক হারিয়ে গেছেন বলে উল্লেখ করেন৷ পরে ব্যাংকের কাছে তার হিসাবে ওই চেকের বিপরীতে লেনদেন স্টাফ করার আবেদন করেন৷ একইসাথে তিনি আদালতে মামলা করেছেন
মামলা সূত্রে জানা যায়, নুরুল আবছার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের উত্তর খাদেম পাড়ার মৃত বদিউর রহমানের ছেলে৷ আর আব্দুল হান্নান কুমিরা গ্রামের মৃত আবদুল আলী ছেলে। তিনি মেসার্স হান্নান আয়রন মার্ট নামে একটি দোকানের মালিক। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৯ জুন নুরুল আফসারের ইউসিবি ব্যাংকের চেকটি হারিয়ে গেলেও আব্দুল মান্নান একটিতে কল্পিত ৫০ লক্ষ টাকা বসিয়ে টাকা দাবি করছেন। ২৫ আগস্ট সঙ্গে কুমিরে দেখা করতে গেলে তিনি একটি কুড়িয়ে পাওয়ার কথা অস্বীকার করেন নূরুল আবছারকে চেকের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন।
এদিকে নোটিশ দাতা আব্দুল হান্নান লিগ্যাল নোটিশ উল্লেখ করেছেন, ব্যবসায়িক কারণে নুরুল আফসার ৫০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি আর টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। তিনি টাকার বিপরীতে ৫০ লাখ টাকার একটি চেক দিয়েছিলেন৷ ইউসিবি ব্যাংকের চেক দিলেও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক কুমিরা শাখায় নগদানের জন্য বলেন নুরুল আবছার। কিন্তুু ওই ব্যাংক চেক ডিজওনার করে৷
জানতে চাইলে নুরুল আবছারের আইনজীবী মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, আমার কাছে দেখে মনে হয়েছে নুরুল আফসারের কাছে ৫০ লক্ষ টাকা নেই এবং তার চেকটি হারিয়ে গেছে৷ নুরুল আব স্যার একজন নৈশপ্রহরী৷ তিনি কারো কাছ থেকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা ধার নেওয়ার মতো ব্যক্তি নন। বাকিটি আদালতে আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে বুঝা যাবে৷
জানতে চাইলে সীতাকুন্ড থানার মো. খায়ের উদ্দিন জানান, দুই পক্ষই মিথ্যা বলছে৷ একপক্ষ রাস্তায় চেক হারিয়ে যাওয়ার নাটক করছে৷ আরেক পক্ষ ৫০ লাখ টাকা পাবে বলে অভিযোগ করছে। আমি বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করছি৷