বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী বলেছেন, “আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতার লিয়াজুর ফলেই শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। অন্যথায় ২০১৩ সালেই হাসিনার পতন ঘটতো। বুধবার (২০ আগস্ট) সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী জলিলস্থ নিজ বাসভবনে তার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে সীতাকুণ্ড উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি। এতে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ ইসমাইল। জুলাই অভ্যুত্থানের পেছনের গল্প তুলে ধরে আসলাম চৌধুরী বলেন, “১৪ আগস্ট আমি কুমিল্লা কারাগার থেকে চট্টগ্রাম কারাগারে আনা হই। কারাগারে থেকেও আমার নেতাকর্মীদের সঙ্গে সক্রিয় নেটওয়ার্ক ছিল। জুলাই অভ্যুত্থান আন্দোলনে ছাত্রদের আমি আর্থিক ও অন্যান্যভাবে সহায়তা করেছি।”
তিনি দাবি করেন, ২০১৩ সালের লাগাতার আন্দোলন ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের মাধ্যমে বিএনপি সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। “তবে, সে সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঠিক নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি পরিচালনার অভাবে সেই সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি,” — বলেন তিনি।
২০১৪ নির্বাচনে ‘সাজানো নাটক’-এর অভিযোগ:
২০১৪ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গে অধ্যাপক আসলাম বলেন, “বিএনপির দুই-একজন কেন্দ্রীয় নেতা তখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় ছিল। আওয়ামী লীগ নাকি বিএনপিকে ৬০-৮০টি আসন দেবে— এমন প্রত্যাশায় তারা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়নি। ভোটের আগের রাতেই প্রশাসনকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ব্যালট ভর্তি করে নেয়, অথচ ভোটের দিন সকাল ১০টা পর্যন্ত তারা মিডিয়াতে বলে যাচ্ছিল, ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে। পরে, বিএনপিকে মাত্র পাঁচটি আসন দেওয়া হয়, যার মধ্যে একটি ছিল বগুড়া থেকে মির্জা ফখরুলের।”
এই ঘটনাকে তিনি ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর দায়ভাগ তৃণমূল নেতাকর্মীদের বহন করতে হয়েছে। “কেন্দ্রের ভুল সিদ্ধান্তে বহু কর্মী জেল-জুলুম, মামলা-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন,” যোগ করেন তিনি। ব্যক্তিগত দুর্দশা ও গণভালোবাসার কথা জানিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, “জেলে থেকেও আমি প্রমাণ করেছি যে, আমি ঋণখেলাপি নই। আমার বিরুদ্ধে যত ষড়যন্ত্র হোক, আমাকে দমিয়ে রাখা যাবে না।” তিনি দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বে সীতাকুণ্ডে গড়ে ওঠা শক্তিশালী আন্দোলনের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত সংসদে তাঁকে নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এমনকি, “ইত্তেফাক পত্রিকায় পরপর তিনদিন আট কলাম হেডলাইন ছিল আমাকে নিয়ে,” জানান তিনি। তিনি বলেন, “আমার পরিবারের পুরুষ সদস্যদের নামে একের পর এক মামলা দিয়ে আমাদের নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা হয়েছে।” তবে কারামুক্তির পর নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় তিনি অভিভূত হয়েছেন। “চট্টগ্রাম জেলগেট থেকে বড় দারোগাহাট পর্যন্ত হাজারো মানুষের ভালোবাসা প্রমাণ করে দেয়— আমি একা নই,”।