চট্টগ্রাম বুলেটিন

নিজেকে টেকনোক্রেট উপদেষ্টা ভাবেন ফারুকী

নিজেকে একজন টেকনোক্রেট উপদেষ্টা ভাবেন মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী। তিনি সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করতে এসেছেন এবং এই কাজটাই ভালো করে করতে চান।

শুক্রবার (৩০ মে) বিকালে নগরের কাজির দিউড়িস্থ জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, আমাদের সশয় অনেক কম। কিন্তু কাজ অনেক। এটা একটা কঠিন অবস্থা। আমরা কখন ঘুমাই সেটাও জানিনা। ১০ মাসে আমরা জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের বরাদ্দটা দ্বিগুণ করেছি। এর আগে এখানে যে বরাদ্দ ছিল সেটা একেবারে নগন্য ছিল। এটা আমাদেরকে আরও অনেক বাড়াতে হবে। কারণ আমাদের অনেকগুলো কিউরেশনের কাজ আছে। এটার পরিকল্পনা চলছে। আপনারা ৬-৭ মাসে সেটার ফলাফল দেখবেন।

নির্বাচন নিয়ে আমি কিছু বলতে চাইনা। আমি একজন টেকনোক্রেট মিনিস্টার মনে করি নিজেকে। আমি আমার মন্ত্রনালয়ের কাজটা করতে এসেছি। এর বাইরে আমি কোন কথা বলতে চাইনা।

এর আগে বিকাল চারটায় তিনি জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন। তার সাথে ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ঢাবির আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের অধ্যাপক সায়মা ফেরদৌস, শহীদ ওয়াসিম আকরামে পিতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

এসময় উপদেষ্টা জাদুঘরের নিচ তলায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর একটি ভাস্কর্য দেখিয়ে বলেন, এটি হচ্ছে জাদুঘরের সবচেয়ে ইউনিক একটি জিনিস। এই যন্ত্র দিয়েই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই ভাস্কর্যে জিয়াউর রহমান একটি মাইক্রোফোন নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করছেন।

এসময় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যারা বাঁক পরিবর্তন করে দিয়েছেন তাদের একজন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজকে আমরা এখানে এসেছি। জিয়াউর রহমানকে দলের উর্ধ্বে রেখে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং অন্তর্বর্তীকালিন সরকার কিন্তু সেটা করছে। তারা একজন জাতীয় নেতাকে যথাযথ সম্মান জানাচ্ছে। আমি মনে করি বাংলাদেশের বিভিন্ন উৎসবকে তিনি সকলের করে তুলতে কাজ করছেন।

আমরা চাই মাওলানা ভাসানীকে, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে তুলে আনা হোক। যারা এই মাটির জন্য অবদান রেখেছেন তাদেরকে তুলে ধরা হোক। এটা যেন রাজনীতির বাইরে গিয়ে সকলের হয়। পরবর্তী সরকারও যেন সেটা করে। এই জিয়া স্মৃতি জাদুঘরটি অনেক দিন ধরে অবহেলতি ছিলেন। আমি জানতে পেরেছি এটাকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এটা অত্যন্ত আনন্দের।

অধ্যাপক সায়মা ফেরদৌস বলেন, সাবেক রাষ্ট্রনায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে জিয়াউর রহমান এর যতোগুলো পদক্ষেপ আছে আমরা সেগুলোকে সম্মান জানাব। ইতিহাস কোন ব্যক্তির হয়না, দলের হয়না। ইতিহাস আমাদের সবার। তিনি কি ধরণের বিচক্ষণ মানুষ ছিলেন সেটি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। তিনি কিন্তু প্রথম বাংলাদেশকে সবার আগে দেশ, এই চিন্তাকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি দেশকে সবার আগে প্রাধান্য দিয়েছলেন। একটি জাতি তখনি এগিয়ে যায় যখন সে তার ইতিহাসকে সম্মান করতে পারে, ধারণ করতে পারে।

তিনি বলেন, আমি খুব কম পরিকল্পনা দেখেছি যেখানে মানুষ পরিকল্পনা করে এবং তার প্রায়োগিক দিক চিন্তা করেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খুব অল্প পেয়েছিলেন এবং দেশ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে যে একটা হেলিকপ্টার এপ্রোচ বলি আমরা সেটির ভেতরে ধর্ম, সংস্কৃতি, অর্থনীত, পৌরনীতি, কূটনীতি সবকিছু মিলিয়ে তার শুধুমাত্র যে দেশ গঠনের ভিশন ছিলো তা না, তিনি কিন্তু সেটার প্রয়োগও করেছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি কাজে যুক্ত ছিলেন। অল্প সময়ের ভেতরে বাস্তবায়নেও গিয়েছিলেন। তিনি যখন নেতৃত্ব নিয়েছিলেন তখন দেশ একটা ভঙ্গুন অর্থনীতিতে ছিল। সেসময় নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে ভেবেছিলেন। নারীকে অংশগ্রহণের জায়গায়, ন্যাশনাল ডেভলফমেন্ট পলিসিতে তাকে যুক্ত করেছেন, নিয়ে এসেছেন। অথচ সেই সময় নারীকে ভাবা হতো সে পেছনে থাকবে।

Tags :

সর্বশেষ