চট্টগ্রাম বুলেটিন

সেচ প্রকল্পকে কৃষক বান্ধব করতে খাল খনন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ বাড়াচ্ছে সরকার

প্রান্তিক কৃষকদের জন্য চলমান ‘’চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন’’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকবান্ধব নানা উদ্যোগে নিচ্ছে। যেখানে খাল খনন বাড়ানোর প্রয়োজন সেখানে বাড়ানো হচ্ছে। একইসাথে জলাবদ্ধতা নিরসন করতেও নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ধীরে ধীরে প্রকল্পটি কার্যকর ও সুবিধাভোগী বাড়াতে গ্রামে গ্রামে ব্রিজ, কালভার্ট, সেতু, সাঁকোসহ নানা উন্নয়ন কাজের মাধ্যমে কৃষিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন যেমন ঘটানো হচ্ছে তেমনি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফসল উৎপাদনে সহায়ক সেচ ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলেও সোলারের মাধ্যমে সেচ দিতে পারছেন কৃষকরা। আগামীতে গ্রামীণ, দুর্গম এলাকায় কৃষকের জন্য পাইপ লাইন বৃদ্ধি, টেকসেই উন্নয়ন, পাম্প মেশিন স্থাপন করে প্রকল্পটিকে কৃষকের বন্ধু হিসেবে রুপ দিতে চায় সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) চট্টগ্রাম সেচ কমপ্লেক্সে আয়োজিত স্থানীয় পর্যাায়ে মতবিনিময় কর্মশালায় কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সেচ প্রকল্পের আওতায় নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষার অংশ হিসেবে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়। এসময় বক্তারা বলেন, আগে যেখানে কৃষকের জন্য কখনও কোন উন্নয়ন সাধিত হয়নি সেখানে সেচ প্রকল্পের আওতায় বিএডিসি কৃষকদের উন্নয়নে নানা স্থাপনা নির্মাণ করেছে। কৃষকদের সম্পৃক্ত করে তাদেরকেই এই প্রকল্পের বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে তারা আইপিএম ক্লাবের মাধ্যমে প্রত্যেক গ্রামের কৃষকরা সেচ সুবিধা ভোগ করছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ না থাকলেও তারা সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সেচ দিতে পারছে না। এছাড়াও পাহাড়ি এলাকায়ও ১২-১৫ ফুট উপরে পাইপের মাধ্যমে পানি নেওয়া হচ্ছে। যা আগে কখও কল্পনা করা যায়নি। এতে কমেছে কৃষকের খাটুনি, শ্রম, ব্যয়। তারা স্বল্প দামে বাজারে সবজি বিক্রি করতে পারছে। একই পাম্প দিয়ে এক গ্রামের বহু কৃষক সেচ দিচ্ছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি অংশ নেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন সেক্টর-৪ (আইএমইডি) এর মহাপরিচালক মো. মাছুদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আইএমইডি’র পরিচালক আবু সাঈদ মো. ফজলে এলাহী, সহকারী পরিচালক মো. তৈয়াবুর রহমান মোল্যা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম। এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন, প্রকল্পের নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষার টীম লিডার ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ।

কর্মশালায় রাউজানের কৃষক শুক্কর আলী বলেন, আমাদের এলাকায় পাইপ লাইন ও সৌরচালিত ডাওয়েল নির্মাণের মাধ্যমে অত্যন্ত কম খরচে সেচ দিতে পারছি। আগে আমরা সেচের জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করতে হতো। সেইসাথে দ্বিগুণ শ্রম দিতে হতো। এখন আমরা িবেশি জমিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছি। তবে পাইপলাইনগুলোকে যথাযথ সংস্থাপনের মাধ্যমে টেকসই করলে প্রকল্পের সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে মিলবে, অন্যথায় এক মৌসুম আসার আগেই পাইপগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।

রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকার কৃষক আবু তাহের বলেন, যেখানে এলজিইডি পাকা সড়ক ছাড়া কোন রাস্তা তারা করেনা। সেখানে বিএডিসি সরকারের প্রকল্পের মাধ্যমে দুই খালের মাঝে অনেকগুলো ব্রিজ, কালভার্ট করে দিয়েছে। এতে দুই গ্রামের মাঝে যোগাযোগ যেমন স্থাপিত হয়েছে, তেমনি কৃষকদের আগের মতো দূরের পথ ব্যবহার করে সবজি বাজারে দিতে হচ্ছে না।

সীতাকুণ্ডের কৃষক আলী ইমরান বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা নানাভাবে উপকারভোগী হয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড সু্ইচগেইট নির্মাণ করলেও কোন কাজে আসতো না। খান খননের মাধ্যমে আমরা পানি পাচ্ছি। এখন খালগুলো আগের রুপে ফিরেছে। সেইসাথে সৌরচালিত পাম্প আছেই। এতে আমার এলাকায় ১ হাজার কানি জমি চাষের আওতায় এসেছে।

বিএডিসি কর্মকর্তারা জানান, এই প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ঘনমিটার জলাধার/পুকুর পুন:খনন (পাড় বাঁধাই ও বৃক্ষরোপণসহ) করা হয়েছে। ৫০টি ডাগওয়েল নির্মাণ, ৩০ কি:মি ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে ৩৩ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য শস্য উৎপাদন করা হবে। ৯৮০টি বড়, ছোট, মাঝারি আকারের পাইপ কালভার্ট, ওয়াটার পাস ‍ুনির্মাণ করা হয়েছে। তারা আরও জানান, ৩৫৫টি ইউপিভিসি ব্যারিড পাইপ নির্মাণ করা হয়েছে যেগুলো ১-১.৫ ও ২.৫ কিউসেক বৈদ্যুতিক এলএলপি স্কীমে চলে। একইভাবে ২৭০টি সোলার পাম্পের পাম্পহাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৬৭ শতাংশ ও আর্থিক অগ্রগতি ৬১ শতাংশ। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালের জুনে।

Tags :

সর্বশেষ