সময় মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকাল আটটা। ভোর থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সেই বৃষ্টি মুষলধারে রূপ নিলো। এরপর চট্টগ্রাম মহানগরের লালদিঘীর পাড়ের আশেপাশের এলাকায় শতমত মানুষের জটলা। ট্রাকে, মোটরসাইকেলে দলে দলে আরও মানুষ সেখানে আসছেন। কারণ একটাই দীর্ঘ ৯ বছর পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হবেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরী।
আর তাকে ঘিরেই নানা আয়োজন-উৎসব। গ্রাম থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী তাকে বরণ করে নিতে এসেছেন কারা ফটকে। বৃষ্টি যেন তাদের কাছে মামুলি ব্যাপার। ঘড়ির কাঁটায় বেলা দশটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে আসলাম চৌধুরী কারাগারের প্রধান ফটিক দিয়ে বের হয়েই হাত দেখালেন জনতার উদ্দেশ্যে। মুহুর্তেই সকলে সমস্বরে চিৎকার করে ওঠলেন। বয়ে গেলো আনন্দের জোয়ার। খুশিতে আত্মহারা সকলে। কেউ তাকে জড়িয়ে ধরছেন, কেউ কান্না করছেন। কেউবা গলায় ফুলের মালা লাগাতে ব্যস্ত।
মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম কারাগারের সামনে এমন আনন্দঘন পরিবেশ দেখা যায়।
আসলাম চৌধুরী কারাগার থেকে বেরিয়েই রওয়ানা দেন নিজ নির্বাচনী এলাকা সীতাকুণ্ডের উদ্দেশ্যে। তার সাথে যুক্ত হয় নেতাকর্মীদের গাড়িবহর। অনেকেই আবার পায়ে হেঁটে রওয়ানা দেন। প্রবল বর্ষণের পরও কেউ তার গাড়ি বহর ছেড়ে যায়নি। এ যেন নেতার প্রতি অন্যরকম এক ভালোবাসা।
পথে পথে জনতার সমুদ্র। কিছুতেই আগাতেই পারছেন না তিনি। নগরের টাইগারপাস, লালখান বাজার, জিইসি মোড়, একে খান, সিটি গেইট, ফৌজদারহাট, জলিল, ভাটিয়ারী, মাদামবিবিরহাট, বারআওলিয়া, সোনাইছড়ি, কুমিরা হয়ে পথে পথে হাজার হাজার নেতাকর্মীর ঢল। সড়কের দুপাশে নেতাকর্মীরা তাকে ফুল ছিটিয়ে দিচ্ছেন। তিনি গাড়ি থামিয়ে হাত নাড়ছেন। আর সালাম দিচ্ছেন। সবারই মুখে মুখে হাসি।
এভাবেই চট্টগ্রাম শহর থেকে ১ ঘন্টার ৪৫ কিলোমিটারের পথ ৭ ঘন্টায় পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে। সীতাকুণ্ডের বড় দারোগারহাট ঘুরে পৌরশহরে এসে থামেন তিনি। পরে তিনি বলেন, স্বৈরাচারকে আপনারা ছাত্র-জনতা মিলে বিদায় করেছেন। এজন্য আপনাদেরকে অনেক বেশি ধন্যবাদ। এরপর বৃষ্টি বাড়লে তিনি আর বক্তব্য দেননি। জানা গেছে, বিকালে পরিবারের সদস্যদের কবর জেয়ারত করে ঘরে ফিরবেন বিএনপির এই নেতা।
এর আগে সোমবার রাস্ট্রদ্রোহের মামলায় হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপ্রতি সৈয়দ রেফাত আমেদের নেতৃত্বে ৬ বিচারপ্রতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানী করেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। মামলাটিতে হাইকোর্ট জামিন দিলেও দীর্ঘদিন স্থগিত করে রাখা হয়। ২০১৬ মে আসলাম চৌধুরীকে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তিনি ৭৬ টি মামলায় জেলহাজতে ছিলেন।
উপজেলা বিএনপির নেতারা বলেন, আসলাম চৌধুরীকে পেয়ে তারা যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছেন। এতো দিন ধরে তারা এক শূন্যতায় ভুগছিলেন। আজ তার পূরণ হলো। এটি তাদের দ্বিতীয় বিজয় বলে মনে করছেন অনেকে।