চট্টগ্রাম বুলেটিন

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি হত্যার শ্বেতপত্র বের করতে হবেঃ শাহজাহান চৌধুরী

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি হত্যার শ্বেতপত্র বের করে বিচার করতে হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর ও সাবেক সংসদস সদস্য মাওলানা শাহজাহান চৌধুরী।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম কোর্ট বিল্ডিং অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির ব্কতব্যে তিনি এ কথা বলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান বৈষম্য দূরীকরণে করণীয় নির্ধারণ করতে এই শীর্ষক মতবিনিময় আয়োজন করে বৈষম্য বিরোধী পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐক্য পরিষদ।

এসময় তিনি আরও বলেন, কি দিলে সন্তু লারমারা সন্তুষ্ট হবেন সেটি এখন সকলের কাছে স্পষ্ট। তাদেরকে জুম্বুল্যাণ্ডটা দিয়ে দিলেই তারা সন্তুষ্ট হবেন। এটাতো হতে দেওয়া যাবেনা। মনে রাখবেন এই পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের। তোমরা চাইলেই আমরা এটি দিয়ে দিব তা হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের দেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এলাকা। এটির সাথে আমাদের ভৌগলিক সীমানা আছে। এই দেশ আমাদের, এই পাহাড় আমাদের। ওরা বলে ওরা নাকি হাজার বছর বাঘ-ভাল্লুকের সাথে যুদ্ধ করে এদেরকে তাড়িয়ে পাহাড়ে যুদ্ধ জয় করেছে। ওরা আসলে ইতিহাসই জানেনা। আমরা মুসলমানেরা এবং এদেশের মানুষেরা সেখানে বাঘ-ভাল্লুক এবং পাহাড়ের প্রতিকূল পরিবেশের সাথে যুদ্ধ করে সেই পাহাড়ে জনপদ গড়েছি। তোমরা বরং বার্মা থেকে এসেছো, আরাকান থেকে এসেছো। বিভিন্ন জায়গা থেকে মার খেয়ে এসেছো এবং আমাদের এখানে আবাস গড়েছো। ভুলে যাইয়ো না পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদেরই।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় এই মজলিসে শূরা সদস্য আরও বলেন, রাশেদ খান মেনন, সুলতানা কামাল চাইলেই, ওদেরকে আদিবাসী বললেই দিয়ে দিব। এটাতো হতে পারেনা। আমরাতো এখানে ২০ কোটি আছি। তোমাদের ৫ কোটির জন্য ৮ জন মন্ত্রী এটাতো হবেনা। একজনের একটি উক্তির কারণে সন্তু লারমা, লাল বাহাদুররা এই যাত্রা করে এতটুকু এসেছেন।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ,পার্বত্য চট্টগ্রাম আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ইয়াকুব আলী চৌধুরী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক আহসান উল্লাহ চৌধুরী, বান্দরবান জেলা আমীর এস এম আব্দুস সালাম আজাদ, খাগড়াছড়ি জেলা আমীর সৈয়্যদ আবদুল মোমিন, মহানগরের সেক্রটারি মুহাম্মদ উল্লাহ। আরও উপস্থিত ছিলেন, বৈষম্যবিরোধী পার্বত্য ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী তৌহিদ আজাদ, সহকারী সমন্বয়কারী এড. মুহাম্মদ ইবরাহীম, চট্টগ্রাম ইসলামিক লয়ার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এড. শামসুল আলম, পার্বত্য আইনজীবী ফোরামের এড. আবু তালেব প্রমুখ।

এদিকে বৈষ্যমবিরোধী পার্বত্য ঐক্য পরিষদ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছে বৃটিশ সরকার কর্তৃক প্রণীত ১৯০০ সালের ঔপনিবেশিক ও অগণতান্ত্রিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির মাধ্যমে উপজাতিরা এককভাবে হেডম্যান, কারবারি, সার্কেল চীফ/রাজাসহ নানা সুবিধা ভোগ করে আসছে। হাইকোর্ট ২০১৬ সালে এটিকে মৃত আইন বলে ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন। এই মৃত আইন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরুপ। ১৯০০ সালের শাসনিবিধি একটি কালো আইন। এই আইন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। দ্বিতীয়ত ভূমি কমিশন পূণর্গঠন করতে হবে। তৃতীয়ত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বাঙালিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি থাকা জরুরী। চতুর্থত আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। সকল সম্প্রদায়ের জন্য অংশগ্রহণ রেখে এটি সংস্কার করতে হবে। পঞ্চম দাবি হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদও উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। এটিও সকল সম্প্রদায়ের জন্য উন্মক্ত করতে হবে। ষষ্ঠ হচ্ছে শিক্ষা ও চাকুরীতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপজাতিদের কৌটা থাকায় তারা আজ প্রায় প্রতিষ্ঠিত। তিন জেলা পরিষদগুলোতে ৯২-৯৫ শতাংশ নিয়োগ তাদের থেকে দেওয়া হয়। বাঙালিরা পায় মাত্র ৫ শতাংশ। যা অতি নগন্য। সপ্তম হচ্ছে উপজাতিদের ব্যাংক লোনে সুদ দিতে হয়না, ইনকাম ট্যাস্ক ফ্রি। অথচ বাঙালিরা সব দিতে হয়। এসব ক্ষেত্রে সকলের জন্য একই নীতি চাই। অষ্টম দাবি হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডেও চেয়ারম্যান পদে নিয়োগে বাঙালিরা চরম বৈষম্যের শিকার। নবম দাবি হচ্ছে স্থায়ী বাসিন্দা সনদের ক্ষেত্রেও বাঙালিদের বড় ধরণের বৈষম্য করা হয়। সংবিধান বিরোধী ‘’রাজার সনদ’’ বাতিল করতে হবে। দশম দাবি বাংলাদেশের সকর নাগরিকের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

Tags :

সর্বশেষ