চুরির অপবাদে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রকে পিটয়ে হত্যা
চোখে পানি নেই খতিজা আকতারের। অথচ বুকফাটা কান্নায় ভেতরটা পুড়ে যাচ্ছে তার। বসতঘরের সামনে মাটিতে নিস্তব্ধ হয়ে বসে আছেন তিনি। ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকেন এদিক-ওদিক। মাঝে মাঝে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশে ভিড় করা প্রতিবেশী-স্বজনদের সান্ত্বনা তার কাছে অর্থহীন। কারণ, যার জন্য সব স্বপ্ন, সেই একমাত্র সন্তান মাহিন আর নেই।
শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর গ্রামে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয় সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মো. রিহান উদ্দিন মাহিনকে (১৫)। আহত হয় তার দুই বন্ধু মানিক ও রাহাত, মারধরের শিকার হন বাবাও।
তিন ছেলেকে আগেই হারিয়েছি। বহু প্রতীক্ষার পর জন্ম নেয় মাহিন। বাঁচার ভরসা ছিল সে-ই। আজ তাকেও কেড়ে নিল,’—কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন মাহিনের বাবা মুহাম্মদ লোকমান। তিনি স্থানীয় বাজারের এক ছোট দোকানদার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরে শহর থেকে ফেরার পথে মাহিন ও তার বন্ধুরা চেঙ্গার ব্রিজ এলাকায় প্রতিপক্ষ একদল যুবকের ধাওয়া খায়। জীবন বাঁচাতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা টেনে নামিয়ে এনে বেধড়ক পেটায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় মাহিনের। গুরুতর আহত মানিক ও রাহাত এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সন্তানকে রক্ষায় এগোলে বাবাকেও পেটানো হয়।
অভিযোগের সুরে খতিজা আকতার বললেন, আমার ছেলেকে তারা পরিকল্পিতভাবে মেরেছে। ফাঁসি না হলে আমি নিজেই বিষ খেয়ে মরব। বিচারকও দায় এড়াতে পারবেন না।
নিহতের ফুফু সুখি বেগমের কণ্ঠে আক্ষেপ, মাহিন শেষবার এক গ্লাস পানি চাইলো। কিন্তু হামলাকারীদের ভয়ে দিতে পারিনি। এই কষ্ট আমি কিভাবে সহ্য করব? এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যা।
শোকস্তব্ধ দাদী সাজু বেগম বললেন, প্রতিবেশিরাই শতাধিক লোক জড়ো করে আমার নাতিকে মেরেছে। আল্লাহ যেন ওদেরও এমন মৃত্যু দেন।
ঘটনার পর চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওসি নূর আহমদ জানান, এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে। হত্যার কারণ উদঘাটনেও পুলিশ কাজ করছে।