সন্দ্বীপ প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপি এখনো দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। এই আসনে প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করা হবে বলেই জানিয়ে আসেছে দলটির হাইকমান্ড। এ অবস্থায় দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ডজনখানেক প্রার্থীকেও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হচ্ছে। পাশ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে জোরেশোরে প্রচারণা ও বঞ্চিতের প্রতিবাদ চললেও এই উপজেলার নেতাকর্মীরা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারছেন না। হাইকমান্ডের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তাদেরকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে সন্দ্বীপে বিএনপির রাজনীতিতে ধৈর্যের এই সময়ে ওঠেছে নানা গুঞ্জন। হাটে-বাজারে সর্বত্র এখন আলোচনা একটাই – আসনটি শেষ পর্যন্ত জোটের শরিক এলডিপিকে ছেড়ে দিচ্ছে বিএনপি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সন্দ্বীপ আসন জোটকে ছাড়লে এখানে বিদ্রোহী হতে পারেন কয়েকজন প্রার্থী। এতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হওয়া যেমন কঠিন হবে। তেমনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীও জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া অন্তকোন্দল এখানে চরমে। যা জয়ের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে এই আসনে জোটের অংশ হিসেবে এলডিপি-র সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও আলোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন বিএনপির মনোনয়ন টিকিট—এ প্রশ্ন ঘিরে উপজেলার হাট-বাজার, চায়ের দোকান ও সামাজিক মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। এটি এখন টক অব দ্য সন্দ্বীপে রূপ নিয়েছে। প্রায় ডজনখানেক ব্যক্তির বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা থাকলেও দলীয় প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন অন্তত চারজন। এরা হলেন, সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং। তারা প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণসহ নানা কার্যক্রমে কেন্দ্রের দৃষ্টিতে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজেদের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক ভূমিকা তুলে ধরতে নানা তৎপরতাও চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। তাদের দাবি—“দলের দুঃসময়ে মাঠে-ঘাটে ছিলেন, নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। স্বৈরাচারের হাতে জেল খেটেছেন, মামলায় জর্জরিত ছিলেন। তাই তারা ধানের শীষের যোগ্য প্রার্থী।
দলীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সন্দ্বীপে বিএনপির অব্যন্তরীণ যে পরিস্থিতি, তাতে সন্দ্বীপ আসনে প্রার্থী নির্ধারণ কেন্দ্রের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম–৩ আসনটি এখনো জোটের আসন হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-র প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে এই আসনে প্রার্থী করার বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। দলীয় একটি সূত্র জানায়, শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবেই এই আসনটি আপাতত ফাঁকা রাখা হয়েছে।
এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবীন বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল পাশা ঘোষণা দিয়েছেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে দূরে থাকা এই নেতা সম্প্রতি মাঠে নেমে কর্মীদের সক্রিয় করছেন। এর আগে কয়েক দফায় তিনি এমপি ছিলেন।
সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট আবু তাহের জানান, “দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। দল যাকে মনোনীত করবে তার জন্য কাজ করতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সন্দ্বীপ বিএনপি এখন গভীর অনিশ্চয়তায়—একদিকে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে শরিক দলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের জটিলতা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি দ্রুত এই সংকট নিরসন করতে না পারে, তবে সন্দ্বীপে বিএনপি জামায়াতের কাছে বড় ব্যবধানে ভোটে হারার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত সোমবার বিএনপি ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও ঘোষণা করা হয়নি চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) সহ ৬৩টি আসন। এমতাবস্থায় নির্বাচনের মুখে সন্দ্বীপে বিএনপিকে শৃঙ্খলায় রাখতে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারের ডাক পেয়েছিলেন বিএনপির সাতজন মনোনয়ন প্রত্যাশী।