চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব দিদারুল কবির দিদারের অনুসারী ও তার ভাড়াটি গুন্ডাদের হামলায় জামায়াতে ইসলামীর ১৪ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ফারুক নামে একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মাহমুদাবাদ গ্রামে মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনা পরপর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুকলাল হাট ও বাড়বকুণ্ড বাজার প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি শুকলাল হাট বাজারে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এসময় জামায়াত নেতারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা এসব কর্মকাণ্ড করেছো তোমাদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ আমাদের হাতে এসেছে। তোমরা ভেবো না এসব করে পার পেয়ে যাবা। আমরা যেন তোমাদেরকে আর চোখের সামনে না দেখি। আমরা হুশিয়ার করে বলতে চাই জামায়াতের সঙ্গে উস্কানি দিয়ে লড়তে আসলে দাঁতভাঙা জবাব দিব আমরা।
জানা গেছে, হামলায় আহতদের মধ্যে মো: ফারুক নামে এক জামায়াতকর্মীকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল কবির দিদার দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ দখলে নিয়ে কোনো উন্নয়ন কাজ না করায় এলাকাবাসীর সাথে দ্বন্দ্ব তৈরী হয়। স্থানীয়রা তার উপর ক্ষুব্ধ ছিল। শুক্রবার জুমার নামাজের পর দিদারকে সভাপতির পদ থেকে সরে যাওয়ার জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী ও জামায়াতকর্মীরা অনুরোধ করে। তখন বিএনপির লোকজন দিদারের পক্ষে অবস্থান নেন। এ সময় দিদারুল কবির ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও জাতীয়পার্টির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে চারজন গুরুতর আহত ও আরো ১০ জন আহত হয়।
বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সানাউল্লাহ মঞ্জু বলেন, ‘দিদারুল কবিরের নেতৃত্বে বিএনপির ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় জামায়াতকর্মী ফারুককে চমেক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এছাড়া আবু সুফিয়ান, পারভেজ ও হাসানসহ আরো ১৪ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, এটা কোনো দলীয় বিষয় নয়। সবাই কোনো না কোনো দলের সমর্থন করে। এ কারণে হয়তো দলের নাম চলে এসেছে। এখানে মূলত মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। জামায়াত নেতাদের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা বসে বিষয়টি সমাধান করে নিব।
এ বিষয়ে জানতে দিদারুল কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘বাড়বকুণ্ডের মারামারি ঘটনাটি আমরা অবগত হয়েছি। এটি নিয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি।
এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান।