চট্টগ্রাম বুলেটিন

সীতাকুণ্ডে রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী দিয়ে বিএনপি কর্মীর দোকান দখলের অভিযোগ

 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে অসহায় ব্যবসায়ী ও বিএনপির তৃণমূলের কর্মী মো. মোজাম্মেল হোসেনের একমাত্র সম্বল অস্থায়ী দোকান দখল ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ ওঠেছে।

সোমবার (৭ অক্টোবর) মধ্য রাতে সীতাকুণ্ড পৌরসদরের ওসমান গণি শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী, থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন।

জানা যায়, বেশ কিছু দিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে বিএনপি কর্মী মোজাম্মেল হোসেনকে উচ্ছেদের পায়তারা করছে একটি চক্র। কিন্তুু উচ্ছেদ করতে না পেরে গতকাল মধ্য রাতে ১৫-২০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে মোজাম্মেলের ফল দোকানের জিনিসপত্র লুটপাট করে বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলে জায়গাটি। পরক্ষনেই মোজাম্মেল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাকেও মারতে তেড়ে আসে ওই সন্ত্রাসীরা। পরে মোজাম্মেল হোসেন কোনমতে প্রাণে বাঁচেন।

অভিযোগ, এর আগে গত ৩ অক্টোবর চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ফল ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেনকে (৫৬) ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তারা মোজাম্মেলের কাছে এককালীন ১ লাখ টাকা ও মাসিক হারে চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় জায়গাটি ছেড়ে দিতে আল্টিমেটাম দেয়।

দখলের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দায়িত্বরত প্রহরী গণমাধ্যমকে বলেন, রাতের অন্ধকারে কিছু লোক ট্রাকে করে বালি এনে দোকানের উপর ফেলে যায়। এসময় দোকানের মালামাল লুটপাট করে তারা। আমি বিষয়টি দেখে ফেলায় আমাকেও হুমকি ধমকি দেয় তারা।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সরকারি জায়গায় ফলের দোকান করে আসছি আমি। এই বাজারে আমার মতো অনেকেই আছেন যারা মার্কেটের সামনে খালি জায়গায় ব্যবসা করেন। এতে জনসাধারণের চলাচলের কোন অসুবিধা হয়না। আমি যেই জায়গাটিতে ব্যবসা করছি সেটি সরকারি রেকর্ডে খাস খতিয়ানভুক্ত জমি। আমাকে তুললে সরকার তুলবে। সেই হিসেবে সবাইকে তুলে দিতে হবে। কিন্তু গেল ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের কিছু সন্ত্রাসী আমার দোকান দখলের উদ্দেশ্যে হুমকি ধমকি দিতে থাকে। তিনি আরও বলেন, সারাজনম ধানের শীষে ভোট দিয়ে আসছি। আমি শহীদ জিয়ার আদর্শের একজন সৈনিক। আমার বড় ছেলে যুবদল, ছোট ছেলে শিবিরের সাবেক সাথী এবং বর্তমানে সে একজন সুনামধন্য সাংবাদিক। আওয়ামী লীগ কখনও আমাদের সাথে এগুলো করার সাহস করেনি। এখন একদল সন্ত্রাসী এসে আমার পেটে লাথি দিতে চাই। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। তারা আমার কাছে চাঁদা না পেয়ে এগুলো করছে।

 

Tags :

সর্বশেষ