চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিবির কর্মী শাহজাহান ও জামায়াত কর্মী পারভেজ হত্যা মামলার আসামি সন্ত্রাসী মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী মিঠুকে গ্রেপ্তার নিয়ে নানা নাটকীয়তা মঞ্চস্থ করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পরও সাংবাদিক ও রাজনৈতিক মহলের কাছে বিষয়টি অস্বীকার করে যাচ্ছিল ওসি মো. মজিবুর রহমান। একপর্যায়ে রাত বারোটায় জামায়াত-শিবিরের প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভের মুখে গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্বীকার করে নেয় ওসি। এমনকি হত্যা মামলায় আদালতে পাঠানোর বিষয়েও আশ্বাস দেন পুলিশ কর্মকর্তা মজিবুর।
সোমবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত ১টায় সীতাকুণ্ড থানায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার দিকে সীতাকুণ্ডের কলেজ রোডের প্রেমতলার বাড়ি থেকে সন্ত্রাসী মিঠুকে গ্রেফতার করে পুলিশের একটি দল। এরপর তাকে থানা হাজতে রাখা হয়। অভিযোগ উঠেছে টাকার বিনিময়ে মিঠুকে গোপনে ছেড়ে দিচ্ছিল পুলিশ। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকরা বিষয়টি জেনে গেলে তারা ওসিকে ফোন দিতে থাকেন। কিন্তু ওসি মজিবুর বরাবরই বিষয়টি অস্বীকার করে যাচ্ছিলেন। পরে রাত ১২টায় কয়েকজন সাংবাদিকরা থানায় গিয়ে মিঠুকে হাজতে দেখতে পান। ওই সময়ও ওসি বলছিলেন তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। তাকে ছেড়ে দিতে হবে। অথচ মেজবাহ উদ্দিন মিঠু একে একে দুটি হত্যা মামলার আসামি।
সীতাকুণ্ড শহর সাথী শাখা শিবিরের সভাপতি মো.সাকিব ও ও জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এজন্য পৌরসূদের বাজারে একটি বিক্রম মিছিল বের হয়। পরে মিছিলটি স্লোগানে স্লোগানে থানায় প্রবেশ করে। সেখানেও দীর্ঘক্ষণ স্লোগান দিতে থাকে জামায়াত শিবিরের নেতা কর্মীরা। এসময় ওসি এসে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ওসি তাদেরকে আশ্বাস দেন মিঠুকে জামায়াত কর্মী পারভেজ মামলায় আদালতে পাঠানো হবে। ওই মিছিলে পারভেজের ছেলেও উপস্থিত ছিলেন। এসময় শহীদ পারভেজের ছেলে বলেন, আমার বাবার খুনীকে কেউ যদি ছেড়ে দিতে চায় তাকে ছাড় কোন দেয়া হবে না।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান বলেন, যুবলীগ ক্যাডার মেজবাহ উদ্দিন মিঠুকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হবে।
প্রসঙ্গত, হাসিনা সরকারের আমলে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মিছিল দেন মেজবাহউদ্দিন চৌধুরী মিঠু। দিদারুল আলম এমপির ক্ষমতা ব্যবহার করে একসময় তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিক বনে যান। এরপর থেকে শুরু করেন থানার দালালি। তার বিরুদ্ধে বহু জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মীকে বিনা অপরাধে পুলিশে সোপর্দ করে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী আমলে পুলিশের অসৎ কর্মকর্তাদের মদ ও নারীও সাপ্লাই দেওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।