চট্টগ্রাম বুলেটিন

হিউভিউ আবাসিকে পাহাড় কেটে ভবন, মোরশেদ হোসেনকে শোকজ করল পরিবেশ অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম নগরের হিলভিউ আবাসিক এলাকায় পাহাড় কর্তণকারী আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মো. মোরশেদকে একটি মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের  জেরে শোকজ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
শনিবার (৫ এপ্রিল) পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক উর্মি সরকারের নেতৃত্বে পরিদর্শক রুম্পা শিকদার ও পরিদর্শক আশরাফুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এসময় তারা পাহাড় কাটার সত্যতা পেয়ে মোরশেদ হোসেনকে শোকজ করেন। তবে তাকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। ফলে পরিবেশ অধিদপ্তরের শোকজ নোটিশ তাঁর ছেলের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল দক্ষিণ-পূর্বে “ঈদের ছুটিতে হিউভিউ আবাসিকে কাটা হচ্ছে পাহাড়, গড়ে তোলা হবে পাঁচতলা ভবন” শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনটি পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরে আসে। শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরপরই শনিবার দুপুরে পরিদর্শনে যায় পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি টিম। তারাও হিলভিউ আবাসিক এলাকায় পাহাড় কেটে বহুতল ভবন গড়ে তোলার সত্যতা পেয়েছেন।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নগরের হিলভিউ আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর রোড়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে। সেখানে আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন পাঁচতলা বাড়ি বানাচ্ছেন। সেখানে পরিবেশ ধ্বংস করে কেটে ফেলা হয়েছে গাছপালা। দিনে-রাতে শ্রমিকদের দিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে। রোজায়ও পাহাড় কাটা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি পাহাড় কাটা হয়েছে ঈদের ছুটিকে কাজে লাগিয়ে। এইসময়ে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রশাসনের অনুপস্থিতির সুযোগে তারা পাহাড় কাটা শেষ করতে চান। ফলে তড়িঘড়ি করে শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৬ সালে হিলভিউ আবাসিকে বস্তিবাসীদের জন্য কিছু জায়গা দিলে ইসলামিক ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মতিন ও আবু ইউসুফ চৌধুরী ৩৬ কাটা জায়গা পান। এ বিষয়টি জানিয়েছেন এম এ মতিন। তিনি বলেন, আমি ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বেশিরভাগ জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি। আমার জমিগুলো পাহাড় নয় খিলা ছিল। এখনও কিছু জমি আছে। তবে মোরশেদ হোসেনের কাছে বিক্রি করা জায়গাগুলো খিলা বলে জানান এম এ মতিন। এসময় তিনি পাহাড় কাটার সাথে জড়িত নন বলেও দাবি করেন।
সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন বলেন, আমি কোন বাড়ি করছিনা এই মুহূর্তে। পাহাড়ও আমি কাটছিনা। পাশের একজন আছে তিনি কাটছে, তবে তার নাম আমি জানিনা। যদিও প্রতিবেশীর নাম না জানার বিষয়টি হাস্যকর। সেখানে তার আরও একটি ভবন রয়েছে যেখানে তার পরিবার থাকেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নোটিশে সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেনকে আগামী ৯ এপ্রিল বেলা ১২টায় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া পাহাড় ও টিলা কেটে আপনি পরিবেশ আইন ১৯৯৫ অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। আপনার স্থাপনায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ যাবতীয় সেবা কেন বিচ্ছিন্ন করা হবে না এবং আপনার বিরুদ্ধে কেন দন্ড আরোপ, মামলা দায়ের ও ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে না তার ব্যাখা দিতে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালকের দপ্তরে হাজির হবেন
Tags :

সর্বশেষ