বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি সিন্দুকছড়ি জোনের কমান্ডার লে. কর্ণেল ইসমাইল সামস আজিজি বলেছেন, অপরাধী যেই হোক তাকে শাস্তি পেতে হবে। সেনাবাহিনী পেশাদারিত্বের সাথে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) একমত মাসিক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিন্দুকছড়ি রেজিমেন্ট খাগড়াছড়ি জেলার ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড গুইমারা রিজিয়নের অধীন। ২০ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিঃ সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল ইসমাইল সামস আজিজি, পিএসসি, জিএর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তার, মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া, জেলা পরিষদের সদস্য সত্যপ্রু, মানিকছড়ি গিরিমৈত্রী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ সাহা আলম, গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী, মানিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহামুদুল হাসান, গচ্ছাবিল আনসার ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক মোঃ দেওয়ান মাতাব্বরসহ বন বিভাগের প্রতিনিধি, গুইমারা ও মানিকছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ,ইউপি সদস্য ,বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, হেডম্যান, কারবারি, সাংবাদিক, বাজার কমিটিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এসময় জোন কমান্ডার আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে যেন অনুষ্ঠিত হয় এজন্য সকলের সহযোগিতকা কামনা করেছেন। একইসাথে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। এসময় তিনি পাহাড়ে পাহাড়ি, বাঙালি শান্তি সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান।
তিনি জানান, সম্প্রতি অপহরণ, আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোন দলের না, যে অপরাধ করবে তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে। সেই অপরাধীর পরিচয় কেবল অপরাধী। তার অন্য কোন পরিচয় আমাদের কাছে মুখ্য নয়। কোনো এলাকায় কোনো প্রকার সন্ত্রাসমূলক কর্মকান্ড যেন কেউ না ঘটাতে পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বর্তমানে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেনাবাহিনীর নামে বিভিন্ন প্রকার গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তাই সকলকে সচেতন থাকতে হবে।
সভায় পাহাড়ি-বাঙালি শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, সড়ক দুর্ঘটনা, অবৈধ কাঠ, বাঁশ পাচার, চোরাকারবারি, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, চাঁদাবাজি, অবৈধ বালু উত্তোলন, অবৈধ জমি দখল, পাহাড় ধস, রাস্তায় এলইডি লাইট স্থাপন, বাজার সম্প্রসারণ যানজট নিরসন, মাদকদ্রব্য, গুম, খুন, অপহরণ, অবৈধভাবে পাহাড়কাটা ,বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা ও আইন-শৃঙ্খলার বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্টেইক হোল্ডারদের ৬০ জন অঙশ নেন।