চট্টগ্রাম বুলেটিন

অভিযোগের জবাবে যা লিখলেন চবি ছাত্রদল নেতা হৃদয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাকসু’ নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে এলজিআরডি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। এর আগে তাকে একই ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। সংগঠনের এই সিদ্ধান্তে কেউ ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়। নিচে তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো…

 

সরকারি অফিস ভাঙচুর!!!

গতকাল ফঠিকছড়ি গিয়েছিলাম ব্যক্তিগত কাজে। সাথে এইচআরএম ডিপার্টমেন্টের শুভকে বললাম চল।

সেখানে বন্ধু Azizul Haque Mamun (সহ-সভাপতি,চবি ছাত্রদল) এর সাথে সাক্ষাৎ করি।এবং ফঠিকছড়ি উপজেলা পরিষদে কর্মরত আমার বাড়ির(রাউজান) ছেলে শয়নের সাথে দেখা করার জন্য উপজেলা পরিষদে যাই কিন্ত সে অফিস রুমে ছিল না এবং দুর্ভাগ্যবশত আমার মোবাইল অফ হয়ে যায়।সময় বিকাল সাড়ে ৪ টা হওয়াতে অফিসে তেমন কেউ ছিল না।একটা রুমে একজনকে দেখতে পাই তাঁর কাছে শয়নের নাম্বার দেওয়ার জন্য বলি( যার কাছে নাম্বার চেয়েছি তিনি আমার পূর্বপরিচিত কিংবা পূর্ব শত্রুতা কোনটাই ছিল না)।সে নাম্বার দিবে না।এসময় আমি তাকে জিজ্ঞাস করি শয়ন এই অফিসের একজন অফিসার আপনিও অফিসার নাম্বার থাকবে না কেন!(উনি অফিসারের চেয়ারে বসে ছিল, তাই অফিসার হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম)।একি অফিসে জব করা স্বত্বেও নাম্বার নেই বলা অস্বাভাবিক & ব্যবহারটাও ভালো ছিল না।(পুরনো সেকেলে সরকারি অফিসারের মত)।যাইহোক এর মধ্যে শয়ন চলে আসে এবং কথাবার্তা বলে চলে আসার সময় উক্ত অফিসারকে বলি এটা উপজেলা পরিষদ। যেখানে শিক্ষা, সমবায় সব ধরণের সেবা দেওয়া হয়, এলাকার বিভিন্ন মানুষ আসে বিভিন্ন প্রয়োজনে। ব্যবহার ঠিক করবেন যথাযথ সেবা দেওয়ার মনমানসিকতা ধারণ করেন, এরকম কিছু কথা বলে চলে আসছিলাম।কথা গুলো বলে চলে আসার সময় পিছন থেকে উক্ত অফিসার পরে যার পরিচয় পেয়েছি নাম আতাউল্লাহ উপ-প্রকৌশলী একটা বাজে স্ল্যাং ইউজ করে এটা সাথে সাথে মামুন,শুভ ২ জনেই প্রতিবাদ করে এবং একপ্রকার বাকবিতন্ডা হয়, তখন আমি মামুন,শুভ কেউ দলীয় পরিচয় কিংবা একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেটাও দেওয়া হয়নি কিংবা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও ছিল না।তখন মামুন প্রতিবাদ করে জানায় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রদলের অমুখ সম্পাদক। এরমধ্যে বাকবিতন্ডায় শুনে বেশকয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী,স্থানীয় যারা অফিসের কাজে আসছিলো তারা সেখানে জড়ো হয়, পরিচয় পেয়ে অনেকে জড়িয়ে ধরে বিষয়টি বাদ দেওয়ার কথা বলে। অফিসের মাসী (পিয়ন), স্থানীয় একজন নেতা মনসুর উনাদের সাথে বের হয়ে বাইরে সবাই চা খেয়ে শহরের দিকে চলে আসি।ঘটনা এতটুকুতে শেষ।

সোমবার হিসেবে রোজা রেখেছিলাম সেখান থেকে বাসায় পৌছে ইফতার করার আগে কয়েকজন সাংবাদিকের কল আসে উপজেলা অফিস ভাঙচুর করেছি! আমি যাস্ট তাজ্জব হয়ে যাই! এই যুগে কেউ আমার বাসা অক্সিজেন থেকে ফঠিকছড়ি ইউএনও অফিসে গিয়ে হামলা ভাঙচুর করবে এটা বাস্তবে ঘটা দূরে থাক কল্পনায় আনা দুষ্কর। দেশটা তো মগের মুল্লুক না।আমি সাথে সাথে ইউএনও অফিসারকে জানাই কারণ আমি তখনি বুঝে গেছি এখানে একটা অপরাজনীতি হচ্ছে এবং হবে।খুব মজার বিষয় সব কল আসতেছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংবাদিকের কাছ থেকে।অথচ ঘটনার কথা বলা হচ্ছে ফঠিকছড়ি।অনেকের সাথে বিস্তারিত শেয়ার করার পর তারাও হাসাহাসি করছিলো যে সামান্য নাম্বারের জন্য এত বড় উপজেলা পরিষদে ভাংচুর করে চলে আসা সেটা আষাঢ়ের গল্পকেও হার মানায়।বেশ কিছু ভুঁইফোঁড় ততক্ষণে অনলাইন নিউজ করে যদিও মুল গণমাধ্যমকে নিউজ করানোর জন্য কল দেওয়া হচ্ছিলো ।নিউজ গুলোর বিষয়ে বিস্তারিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাই এবং এগুলোর দ্বারা মানহানি হলে সেটার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলি।তিনি আজ যেতে বলেন।

আজ বিকালে “মিথ্যা অভিযোগে মানহানীর প্রতিকার “চেয়ে লিখিত অভিযোগ নিয়ে যাই এবং তিনি উক্ত অফিসার আতাউল্লাহ সহ যারা গতকালকের ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন তাদের সবাইকে নিয়ে বসেন। তখন আতাউল্লাহ বলেন তার মোবাইল হ্যাং হওয়ার কারণে নাম্বার দেয়নি অথচ মোবাইল হ্যাং হলে একটা ক্লাশ ফাইভের বাচ্চাও বিষয়টি বুঝতো এবং এ বিষয় নিয়ে কথা বলতো না।অথচ হ্যাং কিংবা কিছুর কথায় জানায়নি।এছাড়া কয়েকটি গণমাধ্যমে ভাঙচুর বিষয়ে তাঁর মিথ্যা মন্তব্যর বিষয়ে জিজ্ঞাস করা হলে, তিনি জানান কোন গণমাধ্যমের সাংবাদিকের সাথে তাঁর কথা হয়নি, তিনি মোবাইল কল লিস্ট শো করেন।আজিব! অথচ অনেকগুলো পত্রিকা তার মন্তব্য কপি পেস্ট করেছে। যাইহোক উপস্থিত সকলের অনুরোধে বিষয়টি না বাড়িয়েই উভয়ের বাকবিতন্ডায়র জন্য অনুতপ্ত হওয়ার মাধ্যমে শেষ করি।

এখন বলি যারা এই ঘটনায় টেন্ডারবাজি পেয়েছেন মূর্খের দল বর্তমানে বাংলাদেশে টেন্ডারবাজি নেই।টেন্ডার ইজিপি করা হয়েছে আওয়ামিলীগ আমলের শেষ দিকে এবং যা ফাকফোকর ছিল সেটার শেষ পেরেক মেরেছে ইউনুস সরকার, এসএলটি সিস্টেমের করার মাধ্যেমে। মান্না- মিসা সওদাগরের জামানা শেষ হয়েছে অনেক আগেই।বাংলাদেশের প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় অনলাইনে। যেখানে কারো কোন হাত থাকে না, পুরোপুরি কম্পিউটার সিস্টেম। কেউ চাইলে বাবা,চাচা,মামা খালুকে টেন্ডার দেওয়া সম্ভব নয়, সিস্টেমের বাইরে গিয়ে দিলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকৌশলী মামলা খাবেন।কেউ যদি বলে থাকে দেশের কোথাও টেন্ডারবাজি হচ্ছে এটা সম্পূর্ণ প্রোপাগান্ডা। সময় থাকলে একটু খোঁজ খবর নিয়ে পড়া লেখা করো বকচদের দল।আর টেন্ডার বলতেই খারাপ ভাবার যুগ নেই, এটা অবৈধ না,সরকারকে ইনকাম ট্যাক্স, ভ্যাট দিয়ে বিজনেস করতে হয় এবং যারা ঠিকাদার তারা ছাড়া বাংলাদেশের সকল উন্নয়ন কার্যক্রম স্তব্ধ হয়ে যাবে।আমার পরিবার সাধারণত ব্যবসায়ীক ফ্যামিলি এবং এক্ষেত্রে আমি নিজেও যদি বিজনেস করি অসুবিধা কোথায়?এদেশে পড়ালেখার পাশাপাশি টিউশন করলে উৎসাহিত করা হয়,পড়ালেখার পাশাপাশি ফুড কার্ড, ছোট খাটো শপ দিলে উৎসাহ দেওয়া হয় শুধু রাজনীতির বেলায় কি ভিন্ন????বৈধ কিছু না করে, সে কি চুরি করবে!

শেষ কথা বলি….যারা একটি সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়কে থামাতে চাও, মৃত্যু ব্যতিত অসম্ভব। আল্লাহ ব্যতিত কাউকে পরোয়া করি না।পদপদবীর চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকে হাসিনার বিরুদ্ধে রাজপথে নামিনি, অর্ধমৃত থেকে সুস্থ হয়ে আবারো স্লোগান ধরেছি, ২০ কোটি টাকার ভাংচুর মামলার প্রধান আসামী করার হীন অপচেষ্টা করা হয়ছিলো দমাতে পারেনি… যার প্রত্যাশা থাকে না, তাকে কেউ দমাতে পারে না।

Tags :

সর্বশেষ