বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় ১ আসামির ৫ দিন ও বাকি ৪ আসামির ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক আলমগীর হোসেন এ রিমান্ডের আদেশ দেন।
এসময় তদন্তে প্রাপ্ত আসামী রিপন দাশের ৫ দিন এবং এজাহার নামীয় আসামি রাজিব ভট্টাচার্যের ৪ দিন, আমান দাশের ৪ দিন, বিশাল দাশে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পরিচালক প্রসিকিউটর এডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, আলিফ হত্যা মামলায় ৪ আসামির ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তার। এসময় আদালত ১ জনের ৫ দিন আর ৩ জনের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে, বিকাল সাড়ে চারটায় তাদেরকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এই চার আসামিকে আদালতে আনা হয়। এসময় আদালতের আশেপাশে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে গত ২৬ নভেম্বর আদালত পাড়ায় হামলার ঘটনার মামলায় ৮ জন আসামির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সকালে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ৮ আসামিরা হলেন, ইমন চক্রবর্তী, সুজন দাশ, সৌরভ দাশ, রফিক, সুমন দাশ, রুপন দাশ, আহমেদ হোসেন ও সাকিবুল আলম। পুলিশের উপর হামলার একটি মামলায় তাদের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
আদালতের সহকারী পরিচালক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, সকালে একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৮ আসামির ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে প্রত্যেকের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আর বিকালে আলিফ ৪ আসামির ১ জনের ৫ দিন ও ৩ আসামির ৪ করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
উল্লেখ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশের ওপর হামলা ঘটনায় গত ২৭ নভেম্বর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
এর আগে, গত ২৬ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর করার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। এসময় তার অনুসারীরা বিক্ষোভ করলে পুলিশ ও বিজিবি লাঠিপেটা এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে এদিন বিকালে রঙ্গম কমিউনিটি হল সংলগ্ন এলাকায় কুপিয়ে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়। তিনি লোহাগাড়ার চুনতি ইউনিয়নের ফারাঙ্গা এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।