সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকার আবু তাহেরকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, তিনি অতীতে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তৎকালীন সরকারের সময় সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে সুশীল সমাজের একজন মানবিক স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে উপস্থাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, গরিব মানুষের মেয়ের বিয়ে দেওয়ার নাম করে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। আরও অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ভোগবিলাসী জীবনযাপন করলেও পারিবারিক দায়িত্ব পালনে উদাসীন ছিলেন। এমনকি নিজের মায়ের সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগও তোলা হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, “সীতাকুণ্ড গরিবের বন্ধু যুব ফাউন্ডেশন” নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নিয়েছেন—এ বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, রক্তদান ও মানবিক সহায়তার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এতিমখানা ও মাদ্রাসার নামে অনুদান চাওয়ার পোস্টও নজরে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে অভিযোগকারীরা আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে তিনি ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং ভোটের সময় এমপি মামুনের সমর্থনে ব্যালট পেপারে সিল সহ ছবি পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু তাহেরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংগঠন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি।
স্থানীয় সচেতন মহল এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।