কথা দিয়ে কথা রাখেননি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিন। শুধু তাই নয় তার ভাই কাজী মহিউদ্দিনও ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন। সবশেষ শনিবার রাতে এক বিএনপি নেতা ফেসবুক লাইভে এসে তার স্বার্থপরতা ও দলকে ভাঙনের রাজনীতির কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
বিএনপির ওই নেতার বক্তব্য ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে৷ এর আগে গত ৩ নভেম্বর হাইকমান্ড কাজী সালাউদ্দিনকে চট্টগ্রাম-৪ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে৷ এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন বক্তব্যে উল্লেখ করেন আসলাম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি সবার আগে দৌড়ে যাবেন এবং আসলাম চৌধুরীর পক্ষে তথা ধানের শীষের হয়ে প্রচারণায় নামবেন। কিন্তুু বাস্তবে ঘটল তার উল্টো।
শনিবার দলীয় মনোনয়নপত্র উন্মোচনকালে লায়ন আসলাম চৌধুরী জানান, তিনি চেয়েছিলেন কাজী সালাউদ্দিনকে সাথে নিয়ে মনোনয়নপত্র উন্মোচন করবেন জনগণের সামনে। তার ভাই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব (সংখ্যাগরিষ্ঠের অনাস্থা) কাজী মহিউদ্দিনকেও একাধিকবার কল করা হয়েছে৷ কিন্তুু তারা কেউ সাড়া দেননি। পরে আসলাম চৌধুরী শনিবার অন্যান্য নেতাদের সাথে নিয়ে নিজ বাসভবনে মনোনয়নপত্র উন্মোচন করেন। এদিন কাজী সালাউদ্দিন ও কাজী মহিউদ্দিনকে দেখা যায়নি৷
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, লায়ন আসলাম চৌধুরী বহু বছর ধরে এই আসনকে সাজিয়েছেন৷ কাজ সাজানো বাগানে ফুল তুলতে এসে সব ফুল মাড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন কাজী সালাউদ্দিন ও কাজী মহিউদ্দিন। দলকে গঠনের বদলে তিনি টুকরো টুকরো করতে চেয়েছিলেন। আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে নানা গুজব, শ্লোক বাজারে ছড়িয়ে মাঠ ধরার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। নেতারা চট্টগ্রাম বুলেটিনকে আরও জানান, কাজী সালাউদ্দিনই সর্বপ্রথম গোপন মিটিংয়ে ছড়িয়ে দেন আসলাম চৌধুরী এনসিপিতে যোগ দিচ্ছে এবং নতুন দল গঠন করছে৷ এছাড়াও আসলাম চৌধুরী বিএনপিকে পছন্দ করে না, শহীদ জিয়াউর রহমান, তারেক রহমানকে পছন্দ করে না, তাদের নাম উল্লেখ করে না, দলে তিনি নিস্ক্রিয় ইত্যাদি গুজব ছড়ানো হয় পরিকল্পিতভাবে৷
তারা বলছেন, স্বল্প সময়ে যাদেরকে ভুল বুঝিয়ে কাজী সালাউদ্দিন নিজের পক্ষে মাঠে নামিয়েছেন তারা বুঝতে পেরেছেন কাজী সালাউদ্দিন স্বার্থের রাজনীতি করে। আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি ধারেকাছেও ঘেষেননি৷ অথচ কর্মীরা ধানের শীষের কথা চিন্তা করে তার সাথে গিয়েছে৷ এখন তিনি ব্যক্তিস্বার্থই উপরে রাখলেন৷ ভবিষ্যতে কাজী সালাউদ্দিনকে কড়া জবাব দেওয়া হবে বলেও জানান তারা৷
এদিকে শনিবার মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়ে জানতে সাংবাদিকরা কাজী সালাউদ্দিনকে কল করলেও তিনি ও তার ভাই কাজী মহিউদ্দিন ফোন রিসিভ করেননি৷ এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বরও কাজী মহিউদ্দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন মনোনয়ন তার ভাইয়ের হাতেই আছে।