চট্টগ্রাম বুলেটিন

চট্টগ্রামে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, হাসপাতাল-ব্যাংক সবকিছুতেই স্থবিরতা

চট্টগ্রামে তিন দিনের অবিরাম লোডশেডিং বন্দর শহর কার্যত অচল করে দিয়েছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ ঘণ্টাও টানা বিদ্যুৎ মিলছে না। কখনো আধা ঘণ্টা আসে, আবার দু’ঘণ্টা-তিন ঘণ্টা অন্ধকার। লোডশেডিংয়ের সময়সূচি নেই, নেই কোনো পূর্বঘোষণা। এই অনিশ্চয়তায় নগরের হাসপাতাল, ব্যাংক, ক্লিনিক, দোকান, স্কুল-সবখানেই অস্থিরতা।

খুলশী, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা ও কর্নেলহাট এলাকায় সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। চান্দগাঁও আবাসিকের বাসিন্দা শামীমা আক্তার বলেন, আমাদের এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় তিন ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ এসেছে। ফ্রিজ নষ্ট হওয়ার উপক্রম, খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাতে টর্চ জ্বেলে বাচ্চাদের পড়াতে হয়।’

সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা লালখানবাজার এলাকায়। এই এলাকার বাসিন্দারা জানান, ৫ আগস্টের পর থেকেই এই এলাকায় দিনে ১০-১৫ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে। গত এক সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই ঘণ্টায়ও থাকছে না।

বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায়। সেখানে একাধিকবার দেখা গেছে-দুই ঘণ্টা লোডশেডিং, ১৫ মিনিট বিদ্যুৎ, আবার দেড় ঘণ্টা অন্ধকার। এলাকার দোকানি রশীদ মিয়া বলেন, ‘জেনারেটর চালাইতে জ্বালানির খরচে দোকানের লাভ উঠে যাচ্ছে। তাও ব্যাটারি চার্জ হয় না।’

পতেঙ্গার অনেক এলাকায় পানি তোলা যাচ্ছে না। পতেঙ্গার হাউজিংয়ের একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকলে পানিও আসে না। তিন দিন ধরে ড্রাম ভর্তি পানি কিনে বাঁচছি।’

হাসপাতালক্লিনিক: জেনারেটরের আওয়াজে চিকিৎসা, ছোট হাসপাতালগুলো সংকটে

বড় হাসপাতালগুলোতে জেনারেটর থাকলেও টানা লোডশেডিংয়ে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জেনারেটর চলে, কিন্তু ল্যাব, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রামে দেরি হচ্ছে। অপারেশন থিয়েটারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।’

খুলশীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকের পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘জেনারেটর দিনে ১৫-১৬ ঘণ্টা চালাতে হচ্ছে। ডিজেলের খরচ দ্বিগুণ। বাচ্চাদের ইনকিউবেটর, আইসিইউ-সবকিছু চালাতে গিয়ে আমরা বিপদে।’

ছোট ক্লিনিকগুলো আরও বিপদে পড়েছে। পাঁচলাইশের একটি ছোট ক্লিনিকের নার্স মিনারা বেগম বলেন, জেনারেটর এতক্ষণ চালানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। সিরিঞ্জ পাম্প, নেবুলাইজার-সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। রোগীরা রাগ করে চলে যাচ্ছে।’

চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি ব্যাংকে গত তিন দিনে অনলাইনের সার্ভার একাধিকবার বন্ধ হয়ে গেছে। আগ্রাবাদের একটি ব্যাংকের গ্রাহক সাইফুল আনোয়ার বলেন, তিনবার গেলাম, কিন্তু সার্ভার ডাউন। টাকা তুলতে পারলাম না।’

চট্টগ্রামের অনেক স্কুলে ভ্যাপসা গরমে ক্লাস অস্বস্তি নেমে এসেছে। গরমে শিক্ষার্থীরা হিমশিম খাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা হোস্টেলে মোবাইল চার্জ দিতে পারছে না, রাতে পড়তে পারছে না।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. শামীম হাসান বলেন, জ্বালানি সংকট আরও গভীর হচ্ছে। সামনে এর চেয়ে ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আমাদের হাতে করার মতো কিছুই নেই।

Tags :

সর্বশেষ