চট্টগ্রামে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ১৯ দিনব্যাপী স্বাধীনতার বইমেলা-২০২৬। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় নগরের কাজীর দেউড়িস্থ জিমনেসিয়াম মাঠে এই মেলার উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। যা চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। এবারের বইমেলায় ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে ১২৯টি স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি ডাবল স্টল এবং ৯৪টি সিঙ্গেল স্টল। এবারের বই মেলায় চট্টগ্রাম ও ঢাকার ১১২টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিয়েছে।
বইমেলা উদ্বোধন শেষে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রত্যেকবার একুশে বইমেলা হলেও এবার আমরা স্বাধীনতা বইমেলার আয়োজন করেছি। মূলত নির্বাচন ও ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে বইমেলা যথাসময়ে করা যায়নি। আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষা, সংস্কৃতির শুদ্ধ চর্চা অব্যাহত রাখছে। যাতে করে নতুন প্রজন্মের বইয়ের প্রতি ঝোঁক থাকে। তারা যেন ডিভাইস ও মাদকে আসক্ত হয়ে না পড়ে। সেইসাথে শুধু এক মাস মেলা নয় নগরের সিটি করপোরেশনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেই ধারা অব্যাহত রেখেছে। বিনোদন ও অবসর কেন্দ্রগুলোতে আমরা মিনি লাইব্রেরী গড়ে তুলেছি। প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও আমাদের একটা করে লাইব্রেরী আছে, আছে ই-লাইব্রেরী ও ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী। প্রতি মাসে ৫-৬ কোটি টাকা শিক্ষা খাতে দিচ্ছে ভুর্তকি দিচ্ছে। আমি বলব এটা কোন ভুর্তকি নয়, আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে আমাদের বিনিয়োগ। বই পড়ার কোন বিকল্প নেই। বই আমাদের সত্যিকারের বন্ধু। সবাই বেইমানী করতে পারে কিন্তু জ্ঞান কখনও বেইমানী করেনা, বিপদে কাজে আসে। এজন্য বেশি, বেশি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আমি অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিন, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা কিচিঞ্জার চাকমা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান প্রমুখ।
চসিক সূত্রে জানা যায়, চসিকের সংস্কৃতি বিভাগ বইমেলার আয়োজন ও দেখভাল করছে। এছাড়াও ব্যবস্থাপনায় থাকছে চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ। এবারের মেলায় থাকছে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজন। এর মধ্যে রবীন্দ্র উৎসব, নজরুল উৎসব, লেখক সমাবেশ, শিশু ও যুব উৎসব, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান, কবিতা ও ছড়া উৎসব, আলোচনা সভা, লোকজ ও নৃগোষ্ঠী সংস্কৃতি বিষয়ক আয়োজনসহ নানা অনুষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিনের আলোচনা সভায় দেশের বিশিষ্ট লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাও দায়িত্ব পালন করবে মেলায়। দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা রাখা হয়েছে। আছে ফুড কর্ণার, ওয়াশরুমসহ নানা সুব্যবস্থা।
চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি মো. সাহাবুদ্দিন বাবু জানান, চট্টগ্রামে প্রতিবছর বইমেলা হয়ে আসছে। এবার জাতীয় নির্বাচন ও ঈদুল ফিতরের কারণে সময়ে একটু ছেদ পড়েছে। দেরিতে হলেও বইমেলা হচ্ছে এটি অবশ্যই বই প্রেমী ও লেখক-প্রকাশকদের জন্য অবশ্যই সুখের। এই বইমেলা শুধু একটি আয়োজন নয়, এটি চট্টগ্রামের সব মানুষের মিলনমেলা। লেখক, পাঠক ও সংস্কৃতিমনা মানুষরা এখানে নতুন করে জেগে ওঠবে।