পায়ে ডান্ডাবেড়ি। হাতে হাতকড়া। কোমড়ে বাঁধা মোটা দড়ি। টেনেহিঁচড়ে তাকে তোলা হতো আদালতে। বলছিলাম আওয়ামী শাসনামলে অর্ধশত মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের কথা। এসব মামলায় রিমান্ডে অকথ্য নির্যাতনের শিকার এই নেতা এখন আলোচনায় আছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে। কয়েকদিনের মধ্যেই এই পদে নিয়োগ হতে পারে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট ও নতুন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পর এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি জেলা পরিষদ এখন রাজনৈতিক মহলে টক অব দ্য টাউন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সহসা নির্বাচন না হলেও দ্রুতই এখানে নতুন রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
অনলাইন এবং অফলাইনে এখন একটাই আলোচনা—কে হচ্ছেন চট্টগ্রামের নতুন জেলা পরিষদ প্রশাসক? এই আলোচনার উঠে এসেছে চট্টগ্রামের প্রবীণ ও ত্যাগী কয়েকজন বিএনপি নেতার নাম। এরমধ্যে শীর্ষে রয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি শেয়ার করে প্রশাসক পদে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন।
তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আশা করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ‘নিষ্প্রাণ’ হয়ে থাকা নগরের লালদিঘী পাড়ের জেলা পরিষদ কার্যালয় এবার রাজনৈতিক নেতৃত্বে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। নতুন প্রশাসক নিয়োগ হলে সেখানে নেতাকর্মীদের যাতায়াত বাড়বে এবং উপজেলা ভিত্তিক সমস্যাগুলো সমাধানের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। এতে স্থানীয় উন্নয়নেও গতি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক হতে প্রার্থীরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জোর তদবির চালাচ্ছেন। দলীয় সূত্র জানায়, প্রশাসক হিসেবে এমন কাউকেই বেছে নেওয়া হবে যারা বিগত দুঃসময়ে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, হামলা-মামলা ও কারানির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং যাদের সাথে তৃণমূলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে যারা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি, তাদের এখানে মূল্যায়নের সম্ভাবনা বেশি।
প্রশাসক হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে থাকা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের বাড়ি সন্দ্বীপ উপজেলায়। তিনি চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৫০টি মামলা রয়েছে এবং দীর্ঘ সময় তিনি ঘরছাড়া ছিলেন। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মানহানির অভিযোগে একটি পত্রিকার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মামলা করে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, বিগত হাসিনার ফ্যাসিবাদী আমলে যে কয়জন নেতা রাজপথে ছিলেন, তাদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত অন্যতম। বহুবার কারাবরণ করেছেন। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত। এমন একজন ত্যাগী জেলা পরিষদের প্রশাসক হলে তার প্রতি মূল্যয়ন করা হবে।